প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নওজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন শিশুও রয়েছেন। সোমবার দুপুর ৩টার দিকে পাকুন্দিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কের কোদালিয়া চৌরাস্তা সংলগ্ন পেট্রল পাম্পের সামনে যাত্রীবাহী সিএনজির সাথে মাল-ভর্তি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় সিএনজিতে থাকা ছয় যাত্রী ও দুই গাড়ির চালকসহ নয়জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বিল্লাল হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং আহতদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া ও কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের চামড়াঘাট থেকে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি (গাজীপুর-থ ১১-৯৪২১) গাজীপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। বেলা ৩টার দিকে কোদালিয়া চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মাল-ভর্তি পিকআপ (ঢাকা মেট্রো-ন-১৬-০৩৩৩) এর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং পিকআপের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। আহত অসিম চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, তিনি কিশোরগঞ্জ চামড়াঘাট থেকে গাজীপুর যাওয়ার জন্য সিএনজিতে ওঠেন। গাড়িতে তার পাশাপাশি এক শিশুসহ আরও চারজন যাত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, “কারও সঙ্গে আমার পূর্বপরিচয় নেই, সবাই অপরিচিত।”
পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। তিনি আরও বলেন, “আহতদের নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”
ইউএনও মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এবং সড়কে যানবাহন চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকুন্দিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কের মতো ব্যস্ত এলাকায় যানবাহনের উচ্চ গতিসহ নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। এছাড়া সড়কের বেহাল দশা, ট্রাফিক সিগন্যালের অভাব এবং অসতর্ক ড্রাইভারদের কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ জানিয়েছে, নিয়মিত ট্রাফিক চেকপোস্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সের যাচাই এবং যানবাহনের অবস্থা পরীক্ষা করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
এই দুর্ঘটনা শিশুদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং পরিবারের জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী সিএনজিতে শিশু থাকার কারণে স্থানীয়রা সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আশা করেন, ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থা ও সচেতন ড্রাইভিং নিশ্চিত করা হবে।
এ ঘটনায় আহতদের যত্ন নেওয়া হচ্ছে এবং গুরুতর অবস্থায় থাকা যাত্রীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি সঠিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ কমিউনিটি সচেতনতার জন্য নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছে, যাতে যাত্রীরা সড়কে নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
এই দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সড়কে নিরাপদ চলাচলের জন্য সচেতনতা, যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলা কতটা জরুরি। দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাজে মানবিক সহমর্মিতা প্রদর্শিত হয়।