নির্বাচনে পুরোপুরি প্রস্তুত বিএনপি: রিজভীর ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা এবং বিশ্লেষণে জমে উঠেছে পরিস্থিতি, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে এসেছে দৃঢ় ও স্পষ্ট বার্তা। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঘোষণা করেছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য পূর্ণ প্রস্তুত। দলটির দীর্ঘদিনের আন্দোলন, সরকারবিরোধী কর্মসূচি এবং নির্বাচনী দাবি–দাওয়ার পর এবার তারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে নামতে প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিনি দাবি করেন, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যে অতিরিক্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে, তাও নেওয়া হবে। তার ভাষায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি সুসংগঠিত, সক্রিয় এবং কাঙ্ক্ষিত কাঠামোয় পৌঁছে গেছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপি মূলত সেই রাজনৈতিক বার্তাই দিয়েছে যে, তারা নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়ার পথ থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

বক্তৃতায় রিজভী আরও বলেন, দেশের মানুষ চায় গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হোক। তিনি মনে করেন, এই দুইটি প্রক্রিয়া একই দিনে হলে জনগণের মতামত আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতন্ত্র সংকটের মধ্যে থাকায় জনগণ এখন এমন একটি নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে, যেখানে প্রকৃত জনম্যান্ডেট প্রতিফলিত হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।

বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দলটি বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মীদের সক্রিয়তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আন্দোলন-সংগঠনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার নির্বাচনের জন্য ভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। তিনি দাবি করেন, দলের নেতাকর্মীরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ, সক্রিয় এবং সংগঠিত।

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে রিজভী স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে ধর্মের অতিরিক্ত ব্যবহার কখনোই শুভ পরিণতি বয়ে আনে না। ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে যারা রাজনীতি করেন, জনগণই তাদের বিচার করবে। তিনি আরও দাবি করেন, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে তা সমাজে বিভাজন তৈরি করে এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়। বিএনপি সবসময়ই ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করে কিন্তু ধর্মকে রাজনৈতিক বিভাজনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারকে সমর্থন করে না বলেও জানান তিনি।

এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গেও কথা বলেন রিজভী। সম্প্রতি এই দলের কিছু বক্তব্য ও অবস্থান রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তা নিয়ে রিজভী বলেন, আজ যারা বিএনপির বিরোধিতা করছে, ভবিষ্যতে তারাই বিএনপির অংশ হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলায়, আর জাতীয় স্বার্থে ভবিষ্যতে বহু দলই একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বাস্তবতার এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক জোট, সমঝোতা ও পুনর্গঠনের পথ খোলা থাকতে পারে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিজভীর এই বক্তব্য শুধু আওয়ামী লীগ-বিএনপি রাজনীতির বাইরেও একটি বড় বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, গ্রেফতার-হামলা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বিএনপির এই ঘোষণা মূলত তাদের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বাড়ানোর কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দলটির অবস্থানও স্পষ্ট করতে চাইছে বিএনপি। বিশেষত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক, সংলাপ এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা—এসবই নির্দেশ করে, বিএনপি নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি কার্যকর রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে চাইছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্তে বিএনপির এই ঘোষণা রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও দলটি দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে তারা ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রিজভীর বক্তব্যে প্রমাণ মিলেছে, দলটি এখন সংগঠিত প্রচারণা, প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কাঠামো—সবকিছুই গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে এখন যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘুরে বেড়াচ্ছে তা হলো—বিএনপির এই প্রস্তুতি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা কি জাতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে? এবং এই অংশগ্রহণ কি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে? একদিকে দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ভোটারদের মধ্যেও নতুন করে নির্বাচনী আগ্রহ দেখা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, রুহুল কবির রিজভীর ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের উত্তাপ আরও এক ধাপ বেড়েছে। জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষের অবস্থান, বক্তব্য ও প্রস্তুতি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন করে রূপ দিচ্ছে। জনগণ অপেক্ষা করছে—এই প্রস্তুতি শেষ পর্যন্ত কী ধরনের নির্বাচনী বাস্তবতায় পরিণত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত