একই দিনে ভোট ও গণভোট: ইসির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৯ বার
একই দিনে ভোট ও গণভোট: ইসির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশ এখন রাজনৈতিক দুরন্বয় ও পরিবর্তনের এক নতুন মোড় পার হচ্ছে। আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একযোগে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সিদ্ধান্তের ফলে সামনে এসেছে এক নতুন চ্যালেঞ্জ — একই দিনে দুটি ভিন্ন ভোট প্রক্রিয়া — সংসদ নির্বাচন এবং প্রবাসী ভোটসহ গণভোট। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন জাগেছে: ভোটকেন্দ্র, ভোটার, কমিশন, প্রশাসন — সবকিছু কি একসঙ্গে সামলানো সম্ভব হবে? এবং ভোটগ্রহণ হলে এটি কি সুষ্ঠু, ঘনিষ্ঠ এবং সময়োপযোগী হবে?

গত ১৩ নভেম্বর, যখন গৃহীত হয়েছিল “জুলাই সনদ” সংশোধনসহ সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব, সেটি প্রয়োগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় — একদফায় একটি গণভোট হবে। conjuntamente same day জাতীয় সংসদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের চিঠি পেয়েছে Election Commission of Bangladesh (ইসি) — তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের দিনে ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্রের সারণি ও অন্যান্য প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এখন সেই একই ভোটকেন্দ্রেই এবং একই ভোটার তালিকার ভিত্তিতে গণভোটও করাতে হবে।

ইসি-র পক্ষ থেকে যদিও ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, তথাপি তারা স্বীকার করছে — একই দিনে দুটি ভোটগ্রহণ পরিচালনায় এটি “একটি বড় চ্যালেঞ্জ”। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) A M M Nasir Uddin চেয়েছেন প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক রূপায়ন এবং ভোটের সকল প্রক্রিয়া একান্ত নিয়ন্ত্রিত ও সুষ্ঠু রাখার ব্যাপারে। তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত প্রস্তুতি ছাড়া এই ব্যবস্থাপন সম্ভব নয়।

এদিকে আইনগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, সরকারের আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন — প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে। অর্থাৎ শুধু দেশেই নয়, বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও গণভোটে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদি দেশের ভোটাররা একসঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেন, দলোর দপ্তরে ব্যালট পেপার, ভোটার তালিকা, আলাদা ভোটব্যালট, পোলিং অফিসার — সবকিছু ভীষণ জটিল হয়ে যাবে।

সরকার জানিয়েছে, দুইভোটের জন্য আলাদা-রঙের ব্যালট পেপার রাখবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা পৃষ্ঠায় কালো প্রিন্ট; এবং গণভোটের ব্যালট হবে রঙিন পৃষ্ঠায়। ভোটদানে হবে “হ্যাঁ” বা “না” — অর্থাৎ, ৪টি প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি বা অসম্মতি জানাতে হবে একসঙ্গে। একই বুথে, একই দিন, একই ভোটার — কি সম্ভব হবে?

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য ঝামেলা ও সময়সঙ্কট থেকে বাঁচতে হলে ভোটকক্ষ প্রতি বুথের ক্ষেত্রে ভোটার সংখ্যা কমানো উচিত ছিল। তাদের মতে, যদি আগে নির্ধারিত ৬০০ পুরুষ বা ৫০০ নারীর জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দ ছিল, তাহলে হয়তো ৩০০-৪০০ ভোটার পর্যন্ত কমানো হতো। কারণ, শীতের দিন, ভোটারদের উপস্থিতি, ভোটাভি’র সময় এবং নিরাপত্তা — সবকিছুই বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এ ছাড়াও, ভোটের দিন ভোটারদের দীর্ঘ সারি, সময় কম পড়লে ভোট দিতে না পারা, ব্যালট বিভ্রাট, ভোটার বিভ্রান্তি — সবই সম্ভাবনা। বিশেষ করে যারা প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন বা প্রবাসী, তারা হয়তো হিমশিম করেও যেতে পারেন।

আরও একটি চ্যালেঞ্জ — ফলাফল ঘোষণা। সাধারণত সংসদ নির্বাচন শেষে ফলাফল পাওয়া যেত সময়সাপেক্ষ। এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট — উভয়ের ফল একসাথে গণনা ও ঘোষণা করা হবে। তবে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হলে, ভোটারের নিশ্চয়তা, গণনাকর্ম, ফলাফল প্রস্তুত — সবকিছু একসঙ্গে হলে সময় নেবে। বিশেষ করে যখন অনেক কেন্দ্র, প্রবাসী ভোট, ব্যালট বাক্স, আলাদা ব্যালট — সবকিছু গণনাযোগ্য হবে।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, একবারেই গণভোট না করে, নির্দিষ্ট প্রস্তুতি ও সময় নিয়ে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন গণভোটের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। কারণ একসঙ্গে ভোটগ্রহণ হলে, কখনো ভোটারদের অধিকার, কখনো প্রশাসনিক দুর্নীতি, কখনো গণনা বা ফল ঘোষণা — সবই ঝুঁকির মুখে পড়ে।

তবে সরকার এবং ইসি তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে — তারা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, এবং সময়মতো নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করবে। প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, ভ্রমণ, রেজিস্ট্রেশন ও ভোটদানের জন্য প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হচ্ছে। তারা বলছে, জনগণের ভোটাধিকার এবং দেশের ভবিষ্যৎ— এ সিদ্ধান্ত একটি গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। যারা পরিবর্তনের আশা করছেন, তারা বলছেন — “একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট হলে সময়, অর্থ ও প্রশাসনিক ব্যয় কম হবে”। আবার যারা নিরাপত্তা, সুষ্ঠু গণনা ও ভোটার সুবিধাভূষ্টিকরণের কথা ভাবছেন, তারা বলছেন — “এটা খুব রিস্কি; ভিড়, বিভ্রান্তি ও বিভাজন তৈরি হতে পারে।”

যেমনই শীতের সকাল ঘনিয়ে আসছে, তেমনি রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। দেশের ভোটার, প্রবাসী, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন — সকলেই এখন দৃষ্টিগোচর হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। সঠিক পরিকল্পনা, সময়মতো প্রস্তুতি আর সুষ্ঠু কার্যনির্বাহী শক্তির ওপর নির্ভর করছে — একসঙ্গে দুটি ভোট কি একসঙ্গে সফল হবে এই অসম্ভব চ্যালেঞ্জ? সময় বলবে।

একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট — একটি নতুন অভিজ্ঞতা। যদি সঠিকভাবে কার্যকর হয়, তাহলে এটি হতে পারে দেশকে আরেক দফায় গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে নেবার একটি সুযোগ। কিন্তু প্রস্তুতি, সুশাসন ও স্বচ্ছতার অভাব থাকলে, এটি সময় ও জনগণের বিশ্বাস খোয়ানোর কারণও হতে পারে। এখন সময় এসেছে — ভোটাররা, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দল — সবাই মিলে সচেতন হওয়ার। এবং নিশ্চিত করতে হবে — ভোট হবে নম্র, সুষ্ঠু, এবং সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত