শেখ পরিবারসহ ২৩ আসামিকে প্লট দুর্নীতির সাজা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮৩ বার
শেখ পরিবারসহ ২৩ আসামিকে প্লট দুর্নীতির সাজা

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারসহ মোট ২৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শেখ পরিবারের তিনজন—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল—ছাড়া মামলায় অন্যান্য ২০ জন আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার থাকা মাত্র একজন। রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গত ২৯ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন, যা আদালত নাকচ করে দেয়। আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করায় তাকে ১ বছরের লঘু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, যা তিনটি মামলায় মিলিত করে মোট তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

শেখ পরিবারের ছাড়াও অন্যান্য আসামিদের সাজা তলবযোগ্য। সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনকে বিভিন্ন মামলায় কয়েক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা সমূহের প্রতি ৬ বছর থেকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড ধার্য করা হয়েছে।

প্রথম মামলাটি করা হয় ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি, যেখানে শুরুতে শেখ হাসিনাসহ আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে চার্জশিটে আসামির সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। এই মামলার আসামির মধ্যে ছিলেন পুরবী গোলদার, খুরশীদ আলম, নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, নায়েব আলী শরীফ, কাজী ওয়াছি উদ্দিন, শহিদ উল্লাহ খন্দকার ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জনকে চার্জশিটভুক্ত করা হয়। এই মামলায় আসামিদের মধ্যে ছিলেন সাইফুল ইসলাম সরকার, পুরবী গোলদার, কাজী ওয়াছি উদ্দিন, শহিদ উল্লাহ খন্দকার, আনিছুর রহমান মিঞা, নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন, নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

তৃতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাল রেকর্ডপত্র তৈরি করা, অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যান্য আসামির মধ্যে ছিলেন কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন, হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

দুদকের কৌঁসুল খানের মাইনুল হাসান (লিপন) বলেন, “আমরা আদালতে বিভিন্ন দলিল ও সাক্ষী প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। মামলায় উপস্থিত প্রমাণাদি দেখিয়েছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সরকারি প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আশা করি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”

আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাজউকের সাবেক কর্মকর্তা খুরশীদ আলম একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি হিসেবে আদালতে আত্মসমর্পণ করায় আদালত তাকে স্বল্পতম সাজা দিয়েছেন। তিনি এ সময় বলেন, “আমি শুধু দায়িত্ব পালন করেছি, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য কোনো প্লট বরাদ্দের অংশগ্রহণ করিনি। আশা করছি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।”

শুধু রাজউক কর্মকর্তারা নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিমন্ত্রীরাও এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয় যে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থের জন্য ব্যবহার করেছেন। মামলার তদন্ত ও আদালত প্রক্রিয়া দীর্ঘ মাস ধরে চলার পর আজ রায় ঘোষণার মাধ্যমে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার রায় দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি সম্পদের অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই রায় এক দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুধু দেশের রাজনৈতিক নেতারা নয়, সাধারণ নাগরিকরাও এই রায়ের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, আদালতের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণমূলক ঘটনা, যা ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক নির্দেশ করবে।

আজকের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি সম্পত্তি দখল সংক্রান্ত অভিযোগে আদালত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। শেখ পরিবারসহ অন্যান্য আসামিদের এই দণ্ড, দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিচারিক স্থিতিশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত