প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই বর্ষীয়ান নেত্রীর শারীরিক অবস্থার এই হঠাৎ পরিবর্তন রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, “আজ দুপুর ১টার দিকে আমি এভার কেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছি। মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাকে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং আমরা তার অবস্থা মনিটর করছি।”
খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হয় গত রোববার (২৩ নভেম্বর) রাত ৮টায়। ভর্তি হওয়ার সময় থেকেই তার শারীরিক অবস্থার প্রতি দলের নেতারা এবং দেশবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এই নেতা এখন শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়ছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে সমর্থকদের এবং সাধারণ নাগরিকদের খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্যের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।
রাজনীতিবিদ হিসেবে খালেদা জিয়ার জীবন রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি বাংলাদেশী রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছেন। দেশে এবং বিদেশে রাজনৈতিক সংকট, কারাবন্দী থাকা, স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা—সবকিছুর মধ্যেও খালেদা জিয়া তার দল এবং দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সেসময় তার স্বাস্থ্যগত জটিলতা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনারি কেয়ার ইউনিটে থাকা মানে অত্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এমন পরিস্থিতি। হৃদরোগ বা অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে সিসিইউ এই পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকায় তার অবস্থা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দলের নেতা ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা এখনও কমেনি।
দেশের রাজনৈতিক মহলও এই সংবাদে চমকিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটি এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবাইকে দোয়া ও মনোযোগী থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে বিএনপি নেতা ও সমর্থকরা নানা সময় উদ্বিগ্ন থাকলেও তিনি সর্বদা নিজের দায়িত্ব পালন করতে চেষ্টা করেছেন। পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের চাপ, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং সময়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য সমস্যা জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বয়সজনিত কারণে হৃদরোগ ও অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
দেশের নাগরিকরা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি শুধু বিএনপির জন্য নয়, পুরো দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একজন বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, এবং তার সুস্থতা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্ব বহন করছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সিসিইউতে নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হল তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া। এই পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করে যে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব। পাশাপাশি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং জীবনধারার পরিবর্তনও তাকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজনীয়।
এদিকে বিএনপি সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে তার সুস্থতা কামনা করছেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। দলের নেতা ও সাংসদরা হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে তার চিকিৎসার সমন্বয় করছেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি হৃদরোগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে। এছাড়া খালেদা জিয়ার জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এবং ওষুধের ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতা ডা. জাহিদ হোসেন বলেছেন, “আমরা চিকিৎসক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছি। তার অবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে দোয়া করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।”
শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা ও উদ্বেগ উভয়ই সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার উন্নতি দেশ ও দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা হতে পারে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাবও বহন করছে।
বর্তমানে হাসপাতালের সিসিইউতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলমান। তার পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে অবস্থান করছেন। দলীয়ভাবে সকল সদস্য তার সুস্থতার জন্য দোয়া ও আশাবাদ প্রকাশ করছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সঠিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে শারীরিক অবস্থা দ্রুত উন্নতির দিকে যেতে পারে।
সমগ্র দেশবাসী এবং রাজনৈতিক মহল খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করছে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, দল ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানুষের কাছে তাঁর প্রভাব তাকে শুধুই রাজনৈতিক নেত্রী নয়, বরং সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। এই মুহূর্তে তার স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।