নগ্ন ভিডিও হুমকি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চক্র ভাঙল পুলিশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

রংপুরে একটি চাঞ্চল্যকর অপরাধ চক্রকে ভাঙতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ, যারা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রলোভন দেখিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়, সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে রংপুর মহানগরের কোতোয়ালী থানাধীন কলেজ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. আজম আলী (২৫) ও মো. সাফায়েত হোসেন (২৫)। অভিযানকালে তাদের থেকে দুইটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে, যা এই চক্রের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশের দাবি, এই চক্র মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত। তারা নারী বা মেয়েদের ছদ্মবেশে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করত এবং কিছু সময়ে স্বেচ্ছাসেবী বা অনিচ্ছাকৃতভাবে নগ্ন ছবি-ভিডিও ধারণ করত। এরপর হুমকি দিত, যে ভিডিও যদি প্রকাশ পায়, তাহলে তাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে বিপর্যয় আসবে। এই হুমকির মাধ্যমে তারা অর্থ দাবি করত।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৬ নভেম্বর দায়ের করা এক মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে এই দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের মতে, এই ধরনের অপরাধ শুধু ব্যক্তিগত জীবনে ক্ষতি নয়, বরং মানসিক চাপ, সামাজিক অপমান এবং আর্থিক ক্ষতির মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করে।

গ্রেফতারকালে এন্টি টেররিজম ইউনিট জানিয়েছে, দুই আসামি নিজেদের কৌশল নিয়ে কাজ করত এবং প্রতিটি শিকারকে নির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিকারদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠাত, যা পরবর্তীতে তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সহায়তা করত। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি বা ভিডিও তৈরি এবং হুমকি প্রদানের মাধ্যমে তারা অর্থ দাবি করত।

এ ধরনের অপরাধ সাধারণত তরুণ ও শিক্ষিত মানুষের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সংরক্ষণে সতর্ক না হলে এমন চক্রের শিকার হওয়া সহজ হয়ে যায়। এর সঙ্গে সামাজিক, মানসিক ও আইনি সচেতনতার ঘাটতি হলে অপরাধীরা সহজেই তাদের নকশা বাস্তবায়ন করতে পারে।

রংপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তারা অনলাইনে এমন হুমকির বিষয়ে সচেতনতা কম লক্ষ্য করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এমন চক্র সমাজে নতুন ধরনের ভয় এবং অস্থিরতা তৈরি করছে। শিকাররা ভয়, লজ্জা এবং সামাজিক অবনতি থেকে বাঁচতে সাধারণত পুলিশে অভিযোগ করতে দ্বিধা বোধ করে। তাই এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা এবং কার্যকর আইন প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাদের দায়ের করা মামলায় প্রমাণাদি ও জব্দকৃত সামগ্রী বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই অভিযান একটি উদাহরণ হতে পারে, যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, এই ধরনের অপরাধ শুধু অর্থ আত্মসাৎ নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার জন্যও ভয়ঙ্কর। তাই সরকার, পুলিশ এবং নাগরিকদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা অপরিহার্য।

এ ধরনের চক্র প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা, আইন প্রয়োগ এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা একত্রে প্রয়োজন। নাগরিকদের উচিত অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার না করা। অনলাইনে অপরিচিত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

রংপুরের পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ধরণের অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নতুন চক্র গঠনের পথ রোধ করা সম্ভব। তাদের মতে, জনগণকে সচেতন করা হলে শিকার হওয়ার ঘটনা কমবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে নগ্ন ছবি-ভিডিও ধারণ, হুমকি প্রদানের মাধ্যমে অর্থ দাবি, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। জব্দকৃত স্মার্টফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিস্তারিত নির্ধারণ করছে।

এ ধরনের চক্রের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সমাজে সামাজিক, মানসিক ও আইনি প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অপরাধের শিকারদের জন্য মানসিক সহায়তা, আইনি সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত সচেতনতা নিশ্চিত করা জরুরি। পুলিশ অভিযান এবং আইনি প্রক্রিয়া অপরাধীদের দমন করতে সহায়তা করবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে জনসচেতনতা অপরিহার্য।

সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, রংপুরে নগ্ন ভিডিও হুমকি দিয়ে অর্থ হাতানোর চক্রের মূলহোতাসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি দেশের অনলাইন নিরাপত্তা এবং সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে। পুলিশ বলছে, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের জন্য সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত