ফুসফুসের ক্যানসার: ৪টি জরুরি তথ্য যা জীবন রক্ষা করে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৬ বার

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ফুসফুসের ক্যানসার এখন আর শুধুমাত্র ধূমপায়ীদের রোগ নয়। আধুনিক গবেষণা দেখাচ্ছে যে অধূমপায়ীরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, এবং তার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে বায়ু দূষণ। নগরায়ণ, শিল্পজাত ধোঁয়া, কৃষি কর্মকাণ্ডে উৎপন্ন ধোঁয়া এবং জৈব জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার—এই সবই এখন ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষত মহিলাদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেড়েছে, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি বড় সতর্কতা।

ফুসফুসের ক্যানসারের প্রথম লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ অসুখের মতো মনে হয়। ধারাবাহিক কাশি, শরীরের ক্লান্তি, খাবারের প্রতি আগ্রহের অভাব—এই উপসর্গগুলো অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। তাই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা বলছে, প্রাথমিক স্তরে ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়লে রোগীর পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার প্রায় ৯০%। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক সময় রোগীরা দেরিতে চিকিৎসা নেন, ফলে সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা কমে যায়। বিশেষত ৫০ বছরের বেশি বয়সী মানুষদের এলডি সিটি স্ক্যান করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফুসফুসের ক্যানসার এক ধরনের রোগ নয়; এটি বিভিন্ন প্রকারের হয়। সবচেয়ে সাধারণ ধরনের মধ্যে রয়েছে নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (NSCLC) এবং স্মল সেল লাং ক্যান্সার (SCLC)। NSCLC প্রায় ৮০–৮৫% ক্ষেত্রে দেখা যায়। এই দুই প্রকারের ক্যানসার একে অপর থেকে আলাদা এবং চিকিৎসার পদ্ধতিও ভিন্ন। সঠিক চিকিৎসার জন্য বায়োমার্কার টেস্টিং করা হয়, যা ক্যানসারের ধরন নির্ধারণ করে এবং রোগীর জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণে সাহায্য করে। এই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি রোগীদের জন্য আরও কার্যকর এবং কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দেয় যাতে ক্যানসার কোষ চিহ্নিত ও ধ্বংস করা যায়। ইমিউনোথেরাপি কেমোথেরাপির তুলনায় কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং রোগীর জীবনযাত্রার মান অক্ষুণ্ণ রাখে। বিশেষ করে যারা ৬০ বছরের বেশি এবং কেমোথেরাপি সহ্য করতে পারেন না, তাদের জন্য এটি এক নতুন আশা।

ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি শুধুমাত্র ধূমপান নয়। বায়ু দূষণ, জীবনধারার পরিবর্তন, জেনেটিক প্রোফাইল—সবই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সচেতনতা এবং প্রাথমিক স্তরে শনাক্তকরণ রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। তাই ৫০ বছরের পর নিয়মিত স্ক্রীনিং এবং যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সচেতন হওয়া, চিকিৎসা গ্রহণ এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনা ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং জীবনকে নিরাপদ রাখে।

ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক স্তরে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত স্ক্রীনিং করা রোগীর জন্য মৃত্যুহার কমাতে এবং দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কার্যকর। রোগীরা সচেতন থাকলে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে এই রোগ থেকে বাঁচার সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুসফুসের ক্যানসারের প্রতি জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এই রোগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

ফুসফুসের ক্যানসারের বিষয়টি শুধু চিকিৎসা নয়, এটি একটি সামাজিক ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়। আমাদের উচিত জীবনের শুরুতেই এই রোগের ঝুঁকি বোঝা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সঠিক সময়ে সচেতন হওয়া, নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া মানেই ফুসফুসের ক্যানসারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

ফুসফুসের ক্যানসার আজকের দিনে শুধুমাত্র ধূমপায়ীদের নয়, সকলের জন্য বিপদ হতে পারে। তাই সময়মতো সতর্ক থাকা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত