উত্তরে বিরল ইসরাইলি হামলা: লেবাননে নিহত ৩, আহত ১৩, লক্ষ্য ছিল হামাস নেতা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৪ বার
উত্তরে বিরল ইসরাইলি হামলা: লেবাননে নিহত ৩, আহত ১৩, লক্ষ্য ছিল হামাস নেতা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

লেবাননের উত্তরাঞ্চলে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন এবং আহত হয়েছেন ১৩ জন। মঙ্গলবার দেশটির ত্রিপোলি শহরের উপকণ্ঠে এই হামলা চালানো হয়। যদিও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবু উত্তরে এমন অভিযান অত্যন্ত বিরল এবং তা এক ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে চলমান উত্তেজনায়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননে অবস্থানরত হামাসের এক শীর্ষ নেতা—মেহরান মুস্তাফা বা’জুর, যাকে তারা ‘হামাসের অন্যতম প্রধান সামরিক কমান্ডার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এই হামলার মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইল প্রথমবারের মতো লেবাননের উত্তরাঞ্চলে অভিযান চালালো। এমন সময় এই হামলা চালানো হলো যখন কাতারে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে এবং একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় এক ভয়াবহ সংঘর্ষে পাঁচ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে, যা চলতি বছরের অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মেহরান মুস্তাফা বা’জুর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান আন্তঃসীমান্ত রকেট হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার মাধ্যমে ইসরাইলের বিভিন্ন শহর—বিশেষত নাহারিয়া, কিরিয়াত শমোনা ও অন্যান্য উত্তরাঞ্চলের বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, তার নিহত হওয়া হামাসের লেবাননভিত্তিক কর্মকাণ্ডে ‘গুরুত্বপূর্ণ আঘাত’ হেনেছে।

হামলাটি চালানো হয় একটি চলন্ত গাড়ির ওপর, যার ছয় সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ ইসরাইলি বাহিনী প্রকাশ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এই ফুটেজ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। একইসঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, অভিযানে ব্যবহৃত গোয়েন্দা তথ্য ছিল ‘নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট’।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এই হামলার ঘটনা ঘটে ত্রিপোলির কাছে একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের সন্নিকটে। গাড়িতে চালানো হামলায় নিহত হন তিনজন এবং গুরুতর আহত হন আরও ১৩ জন। তাদের অধিকাংশই বেসামরিক ব্যক্তি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলা পূর্ববর্তী বেশ কয়েকটি ঘটনায় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইসরাইল এখন শুধু হিজবুল্লাহ নয়, বরং লেবাননে অবস্থানরত হামাসের সশস্ত্র উপস্থিতিকে আরও আক্রমণাত্মকভাবে মোকাবেলা করছে। এর আগে মে মাসে হামাস দাবি করে, দক্ষিণ লেবাননের সিডনে ইসরাইলি বিমান হামলায় তাদের এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। আর গত অক্টোবরে ত্রিপোলির বেদদাউই শরণার্থী শিবিরে হামলায় প্রাণ হারান হামাসের এক সদস্যসহ তার স্ত্রী ও দুই শিশু কন্যা।

ইসরাইলি বাহিনী সব কিছুর দায় স্বীকার না করলেও দাবি করে আসছে যে, তারা কেবল ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু’তে হামলা চালাচ্ছে এবং সব সময় হামাসের সামরিক শাখার নেতৃস্থানীয় সদস্যদের নিশানা করছে।

এদিকে মঙ্গলবার আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে দক্ষিণ লেবাননের বাবলিয়াহ গ্রামে। সেখানেও একটি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এর একদিন আগেই ইসরাইলি বাহিনী দাবি করে, তারা দক্ষিণ লেবাননে পৃথক আরেক অভিযানে দুই হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করেছে।

চলমান এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় দেখা যাচ্ছে, ইসরাইল এখন লেবাননের ভেতরে গভীরভাবে প্রবেশ করে হামলা চালাতে কৌশল পরিবর্তন করছে। যুদ্ধবিরতির আড়ালে দৃশ্যত এই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রাজনীতি এক নতুন মাত্রা লাভ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননের উত্তরাঞ্চলে ইসরাইলি উপস্থিতি বাড়লে তা পুরো লেভান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় রকমের প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, হামাসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বড় প্রতিক্রিয়া না এলেও ধারনা করা হচ্ছে, পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা বা প্রতিক্রিয়া অবশ্যম্ভাবী।

গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় সমান্তরালভাবে হামাস ও হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলের আগ্রাসন এবং একই সময়ে কাতারে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনার পথ যতই আলোচনা দিয়ে সাজানো হোক না কেন, বাস্তবতা মাঠের যুদ্ধেই আজও সবচেয়ে বেশি রক্তাক্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত