বিশিষ্ট আলেম মাওলানা শাফি উদ্দিনের ইন্তেকাল, দেশ শোকস্তব্ধ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার
বিশিষ্ট আলেম মাওলানা শাফি উদ্দিনের ইন্তেকাল, দেশ শোকস্তব্ধ

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের ভিটিগাঁও গ্রামের কৃতি সন্তান, প্রখ্যাত আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ এবং ফার্সি কবি হযরত মাওলানা শাফি উদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন। আজ সকাল ৭.৩০ মিনিটে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। এ খবর শুনে কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম উম্মাহ গভীর শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়েছে। মরহুমের মৃত্যুতে শুধু পরিবারের নয়, পুরো আলেম সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থা একটি বিরাট শূন্যতা অনুভব করছে।

মাওলানা শাফি উদ্দিন ছিলেন কেবল একজন ধর্মীয় শিক্ষাবিদই নন, তিনি ছিলেন ফার্সি কবিতার মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রচারের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তার কবিতায় প্রায়ই ধর্মীয় নৈতিকতা, মানবতার সেবা এবং সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্বকে তুলে ধরা হতো। তিনি কেবল ভক্তদের নয়, সমকালীন শিক্ষার্থীদেরও একজন প্রিয় শিক্ষক এবং পরামর্শদাতা ছিলেন। তার বক্তব্য ও শিক্ষণশৈলী শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, ধৈর্য এবং সততার মূল্যবোধ গড়ে তুলেছে।

মরহুমের মৃত্যুতে কুলিয়ারচর ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের আলেম সমাজ গভীরভাবে শোকাহত। পরিবারের একাধিক সূত্র জানায়, মরহুমের জানাজার নামাজ আজ বিকাল ৪.৩০ মিনিটে সালুয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার নামাজ শেষে তিনি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। জানা যায়, মরহুমের জানাজায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনগণ, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট আলেমরা অংশ নেবেন।

বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল মিল্লাত ও সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান মরহুমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের পরিবার ও শোকসপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দেশ ও সমাজের জন্য তার অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।

মাওলানা শাফি উদ্দিন ছিলেন একাধারে আলেম ও শিক্ষাবিদ। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা ও নেতৃত্ব অনেক শিক্ষার্থী ও ভক্তদের জীবনে অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। তিনি কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের শিক্ষা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে দীর্ঘকাল অবদান রেখেছেন। সালুয়া ইউনিয়নের ভিটিগাঁও গ্রামের শিশুরা তার শিক্ষা ও জীবনীমূলক নির্দেশনার মধ্যে দিয়ে নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করত। এছাড়া, ফার্সি কবিতা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থী ও সমাজকে উচ্চ নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মানসিকতার দিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, মাওলানা শাফি উদ্দিনের মৃত্যু কেবল কুলিয়ারচর বা কিশোরগঞ্জের জন্য নয়, পুরো দেশের আলেম সমাজের জন্য একটি অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। তিনি ছিলেন একমুখী শিক্ষাদানের পরিসরে সীমাবদ্ধ না থেকে ধর্ম, সাহিত্য, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক নীতি প্রচারে একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব। তার সাহিত্য ও শিক্ষা-প্রচেষ্টা বহু প্রজন্মের জন্য মেধা ও নৈতিক শিক্ষার পথপ্রদর্শক হিসেবে থাকবে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মাওলানা শাফি উদ্দিন ছিলেন খুবই নম্র, ভদ্র ও শিক্ষাপ্রিয় ব্যক্তি। তিনি সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য সময় দিতেন এবং ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি জীবনের নৈতিক দিকগুলি শেখাতেন। তার জীবনধারা ও শিক্ষণশৈলী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে সহায়ক ছিল। এছাড়া, স্থানীয় সমাজে তার উপস্থিতি সবসময় একটি নিরাপদ ও প্রেরণামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করত।

মাওলানা শাফি উদ্দিনের ইন্তেকাল দেশীয় আলেম সমাজের এক নীরব শূন্যতা তৈরি করেছে। শিক্ষাব্যবস্থা, মাদ্রাসা ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অবদান গভীরভাবে অনুভূত হবে। বিশেষত ফার্সি কবিতার মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রচার করা এবং তরুণ প্রজন্মকে দিকনির্দেশনা প্রদানে তার অনন্য অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শোকসপ্ত পরিবার জানিয়েছে, মরহুমের জীবদ্দশায় তিনি ধর্মীয় শিক্ষা ও মানবিক কাজের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাতেও নিবেদিত ছিলেন। তার কর্মময় জীবন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। কিশোরগঞ্জের মানুষ এখনও তার নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের কথা স্মরণ করবে এবং তার জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।

আজকের এই শোকের দিনে কুলিয়ারচর উপজেলার মানুষ তার অবদান, নৈতিক শিক্ষার প্রচেষ্টা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধকে স্মরণ করছে। মাওলানা শাফি উদ্দিনের মৃত্যুতে আলেম সমাজের মধ্যে শূন্যতা সৃষ্টি হলেও তার শিক্ষা, সাহিত্য ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে। এই মুহূর্তে কিশোরগঞ্জ, বিশেষত সালুয়া ইউনিয়ন, তার জীবন ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এবং দেশব্যাপী মুসলিম উম্মাহ তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছে।

মাওলানা শাফি উদ্দিনের জীবন ও শিক্ষা প্রমাণ করে, একজন আলেম কেবল ধর্মীয় জ্ঞান প্রচার করাই নয়, সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তার ইন্তেকাল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, আলেম সমাজ এবং সাহিত্যচর্চার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হলেও, তার শিক্ষণ ও সাহিত্যকর্ম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত