পেঁয়াজ-মরিচ কমলেও সবজির দাম এখনও চড়া

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
পেঁয়াজ-মরিচ কমলেও সবজির দাম এখনও চড়া

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর বাজারে শীতের মরশুমে সবজি ও মসলাজাতীয় পণ্যের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মনে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টমেটো, শিম, বেগুনের মতো মৌসুমি সবজির দাম এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে, যদিও পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের দামে সামান্য নেমেছে। এই পরিস্থিতি ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি আনে, কিন্তু সবজির উচ্চমূল্য তাদের দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়কে প্রভাবিত করছে।

গত সপ্তাহে কাঁচামরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ থেকে অর্ধেকে নেমেছে। যেখানে সপ্তাহের শুরুতে কেজিতে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হত, সেখানে বৃহস্পতিবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। একইভাবে, পেঁয়াজের দামও সামান্য কমে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন পাতাযুক্ত নতুন পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এই পতন ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে, তবে বাজারে অন্য সবজির চড়া দাম এখনও উদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে।

বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা এখনও বেশি থাকায় দাম কমতে ধীরে হচ্ছে। স্থানীয় বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শীতের মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও কমতে পারে। তবে, এ মুহূর্তে কিছু সবজি—বিশেষ করে টমেটো, শিম ও বেগুন—এখনো চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজার ও নয়াবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিমের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম সামান্য কমে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। মুলার দাম কেজিতে ৫০ টাকায় নেমেছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা কম। লাউও ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ও কাঁকরোলের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ও পটলের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় মিলছে। তবে পুরোনো আলুর দাম সামান্য বেড়ে ২৫ টাকা হলেও নতুন আলু ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য যথেষ্ট ব্যয়বহুল।

মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে কাঁচামরিচ এবং পেঁয়াজের দাম সামান্য কমায় বাজারে কিছুটা চাহিদা তৈরি হয়েছে। ক্রেতারা জানান, দাম কমে যাওয়ায় তারা এখন নিয়মিতভাবে কাঁচামরিচ কিনতে পারছেন। তাছাড়া, বিভিন্ন ধরনের রান্নার প্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় সামগ্রীও কিছুটা সাশ্রয়ী হয়েছে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সবজি ও মসলার বাজারের ওঠাপড়া মৌসুমী প্রভাব, আবহাওয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের কারণে ঘটে। শীতের শুরুতে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়লে দাম বেড়ে যায়, তারপর সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে দাম কমতে শুরু করে। এছাড়া, ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় হাট এবং শহরের বড় বাজারগুলোতে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সবজির চড়া মূল্যের পাশাপাশি চাল-ডাল, তেল, মাছ-মুরগি ও ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। ডিমের প্রতি ডজন দাম ফার্ম থেকে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা, কিন্তু পাড়া-মহল্লার দোকানে তা ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির বাজারও স্থিতিশীল, ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৫৫ থেকে ১৭০ টাকা, সোনালি জাতের মুরগি ২৫০ থেকে ২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রতি কেজি ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ভোজ্য তেলের বাজারে সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি কয়েক দিনের মধ্যে দোকানে গিয়ে সয়াবিন তেলের দামে পাঁচ-ছয় টাকা বৃদ্ধি হতে পারে বলে জানিয়েছে। সরবরাহে কোনো সংকট নেই, তাই দাম সামান্য বৃদ্ধি হলেও বাজারে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা নেই।

ক্রেতারা বলছেন, শীতকালের সবজি ক্রয়ের সময় তারা এখন আগের চেয়ে বেশি খরচ করছেন। বিশেষ করে টমেটো, শিম এবং বেগুনের মতো সবজিতে অতিরিক্ত দাম ক্রেতাদের দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের দাম কমার ফলে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে আগামী সপ্তাহে দাম আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং ক্রেতাদের জন্য সবজি ক্রয় সহজতর হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজারের এই ওঠাপড়া মূলত মৌসুমী ফসলের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যের ওপর নির্ভরশীল। এর পাশাপাশি পরিবহন ও হোলসেল ব্যবসার কার্যকারিতাও সরাসরি প্রভাব ফেলে। ক্রেতাদের সুবিধার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও হাট-বাজার কমিটি নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে অযাচিত দাম বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া সময়মতো নেওয়া যায়।

সর্বশেষ, বাজার পর্যবেক্ষণ ও সরবরাহ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আশা করা যাচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যে টমেটো, শিম ও বেগুনের মতো চড়া সবজির দামও সামান্য কমে ক্রেতাদের জন্য আরও গ্রহণযোগ্য হবে। ক্রেতারা ইতিমধ্যেই এই পতনের প্রতিফলন বাজারে লক্ষ্য করছেন এবং বাজার থেকে সবজি ক্রয় শুরু করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত