এ্যানির দাবি সৌদিতে হাসিনাকে ‘কাজ্জাব’ বলা হয়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
সৌদিতে হাসিনাকে ‘কাজ্জাব’ বলা হয়

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি দাবি করেছেন, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেন, আর শেখ হাসিনাকে ‘কাজ্জাব’—অর্থাৎ মিথ্যাবাদী—বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদিতে বাংলাদেশি প্রবাসীরা জিয়াউর রহমানকে মুসলিম উম্মাহর নেতা হিসেবে দেখেন এবং তাঁকে একজন দেশি-বিদেশি জনপ্রিয় নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে নারী ভোটারদের নিয়ে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যানি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে, এবং তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, খালেদা জিয়া দেশের নেতৃত্বে সততা ও দক্ষতার প্রতীক ছিলেন, আর জিয়াউর রহমানকে তারা মনে করেন মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দৃঢ় নেতৃত্বের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ্যানি মুক্তিযুদ্ধ, জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণাই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে যুদ্ধের মাঠে নামার যে আহ্বান তিনি জানিয়েছিলেন, তা পুরো জাতিকে স্বাধীনতার জন্য এক স্রোতে মিলিত হতে সাহায্য করেছিল। এ্যানির দাবি, জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত নেতা এবং রণাঙ্গনে তাঁর নেতৃত্ব ছিল অকুতোভয়।

নিজ রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন এ্যানি। তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বহুবার কারাবরণ করেছেন, হামলার শিকার হয়েছেন, এমনকি তাঁর পরিবারও প্রতিনিয়ত নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাড়ি ভাঙচুর, সন্তানদের ওপর অত্যাচার এবং পুলিশি হয়রানি তাঁর জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও তিনি কখনো মাথানত করেননি। অন্যায়ের কাছে নত না হওয়া তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার—এ কথা দৃঢ়ভাবেই জানিয়ে দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান ও আবুল হাশেম, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, জেলা ওলামা দলের সভাপতি শাহ মো. এমরান, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাবেরা আনোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার সুমি ভূঁইয়া। তারা এ্যানির বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতিও এদিন ছিল উল্লেখযোগ্য। এ্যানি তাদের উদ্দেশে বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ আসন্ন নির্বাচনে গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দেবে।

এ্যানির বক্তব্য ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর সৌদি আরব–সংক্রান্ত মন্তব্য নির্বাচনী মাঠে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তবে বিএনপি সমর্থকরা মনে করছেন, এ্যানির বক্তব্য তাদের দলের প্রতি জনসমর্থন আরও দৃঢ় করবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা এ ধরনের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ বর্তমানে তপ্ত, আর এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত