প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ছয়টি অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে সম্ভাব্য ভূমিধসের বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তন নিয়ে আজ বুধবার সকালে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক পূর্বাভাসে জানানো হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সতর্কতা বলবৎ থাকবে। পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এতে করে বজ্রবৃষ্টি এবং হঠাৎ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এটি মৌসুমি বৈশাখী পরিবর্তনের প্রাক্কালে একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলেও কিছু এলাকায় তা মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষত নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।
এর পাশাপাশি, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হতে পারে ৪৪ মিলিমিটার থেকে শুরু করে কোনো কোনো জায়গায় ১৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত, যা অতি ভারী বৃষ্টির পর্যায়ে পড়ে।
এ ধরণের বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য এলাকায়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরীতে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্ষাকালীন আবহাওয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সতর্কতা জারি করে থাকে। বিশেষ করে নদীবন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য এমন পূর্বাভাস ও সংকেত অত্যন্ত জরুরি।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর থেকে ধীরে ধীরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্তার লাভ করছে এবং এর ফলে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে ঘন মেঘ ও বজ্রপাতের পরিস্থিতি।
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। সময়ের আগেই শুরু হওয়া মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে জলবায়ুগত অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বিশেষ করে খোলা জায়গা, নদী ও সমুদ্রপথে চলাচল এবং পাহাড়ি এলাকায় অবস্থানরতদের প্রতি বাড়তি সতর্কতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়ার এমন পূর্বাভাসকে কেন্দ্র করে জনমনে উৎকণ্ঠা দেখা দিলেও এই ধরণের পূর্ব প্রস্তুতি এবং নিয়মিত তথ্য প্রচার দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশ্লেষকরা।