ভিন্নমত পোষণ করলে শত্রু মনে করা হয়: মির্জা ফখরুল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার
ধর্ম ও রাজনীতির ভারসাম্যে বাংলাদেশ: মির্জা ফখরুলের আহ্বান

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতিকে নির্বাচনের অপেক্ষায় অবস্থানরত উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে আসা ও নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের জন্য পুরো জাতি উদগ্রীব। শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দ্বিবার্ষিকী সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। ফখরুল বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের মানুষ যে নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে, সেটি গণতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, গণতন্ত্রে ফিরে আসার জন্য অপরের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেও সমানভাবে সম্মান করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “একতা থাকবে মূল জায়গায়, কিন্তু ভিন্নতা থাকবে। গণতন্ত্রের মূল নীতি হলো আমি আপনার সঙ্গে একমত নাও হতে পারি, তবে আপনার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে আমি রক্ষা করব।” ফখরুলের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক মতভেদের প্রতি সম্মান বজায় রাখা গণতান্ত্রিক সমাজের অঙ্গ এবং তা ছাড়া দেশের প্রগতির পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দেশে ভিন্নমত পোষণ করলে তাকে শত্রু হিসেবে ধরা হয়। বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার ও ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। এই পরিস্থিতি থেকে আমাদের সবাইকে কিছুটা বিরত থাকা উচিত।” তার ভাষ্যে ফুটে উঠেছে যে রাজনৈতিক মতানৈক্য ও সমালোচনার জন্য ব্যক্তিকে শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়।

ফখরুল সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী হওয়া বা লেজুড়বৃত্তি সমস্যা সমাধানের পথ নয়। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে দেশে গণমাধ্যমকে ফ্যাসিবাদীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সাংবাদিকদের উচিত তাদের পেশাগত দায়িত্বকে কেন্দ্র করে কাজ করা, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা।” তার এই বক্তব্যে দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও পেশাদারিত্বের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

এ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের পাশাপাশি সাংবাদিক পেশার মূল্যায়ন ও সংগঠনগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার (জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল) সাংবাদিকদের তাদের নিজস্ব দাবির মাধ্যমে মালিক পক্ষ বা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব উল্লেখ করেন। ফখরুল সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।

বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিনের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল ও প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, হাসান হাফিজ, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, শহিদুল ইসলাম, খুরশীদ আলম, মুন্সি আবদুল মান্নান, বারেক হোসাইন, এরফানুল হক নাহিদ। এছাড়া দেশের ১৮টি অঙ্গ ইউনিয়নের সভাপতি ও প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ অন্যান্য অঙ্গ ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। চট্টগ্রামের মো. শাহ নওয়াজ, রাজশাহীর আবদুল আউয়াল, খুলনার রাশিদুল ইসলাম, বরিশালের আজাদ আলাউদ্দিন, যশোরের আকরামুজ্জামান, বগুড়ার গণেশ দাশ, কক্সাবাজারের নুরুল ইসলাম হেলালী, কুমিল্লার শাহিন মির্জা, দিনাজপুরের সাদাকাত আলী, কুষ্টিয়ার আবদুর রাজ্জাক বাচ্চু, ময়মনসিংহের আইয়ুব আলী, গাজীপুরের দেলোয়ার হোসেন, সিলেটের বদরুজ্জামান বদর, ফেনীর সিদ্দিক আল মামুন ও রংপুরের সালেকুজ্জামান সালেক প্রমুখ। নারায়ণগঞ্জের আবু সাউদ মাসুদ ও মুন্সিগঞ্জের কাজী বিপ্লব হাসানও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য ও আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে দেশের গণতন্ত্র পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়া এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সম্মেলনের বিকালে কর্ম অধিবেশনে সাংবাদিক পেশার উন্নয়ন ও সংগঠনগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, গণতন্ত্র এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তার মতে, দেশের জনগণ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হবে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত