তারেক রহমান বলেন দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৯ বার
তারেক রহমান বলেন দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান সংকটময় শারীরিক অবস্থার মধ্যে তারেক রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তার মায়ের চিকিৎসা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এমন অবস্থায় একজন সন্তানের মতো মায়ের পাশে থাকার গভীর তীব্র আকাঙ্ক্ষা তার ভেতরে জাগলেও দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত যে তার একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, সে কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখন হাসপাতালের সিসিইউতে নিবিড় চিকিৎসাধীন। বিভিন্ন জটিল রোগের সঙ্গে নতুন সংক্রমণ ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দল–মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যে আন্তরিকতার সঙ্গে তার মায়ের রোগমুক্তির জন্য দোয়া করছেন, তা তাদের পরিবারের জন্য গভীর শক্তি ও মানসিক সহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে দোয়া ও চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, সে বিষয়টিও তিনি তার পোস্টে তুলে ধরেছেন।

তারেক রহমান লিখেছেন, দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছে। অসুস্থ একজন রোগীর সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে যে আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং চিকিৎসা প্রটোকলের প্রয়োজন, চিকিৎসকদল সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করছে। পাশাপাশি বন্ধুপ্রতীম কয়েকটি রাষ্ট্র থেকেও উন্নত চিকিৎসা বা জরুরি সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হলে যে কোনো স্তরে সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে তারেক তার পোস্টে উল্লেখ করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার মায়ের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস গড়ে উঠেছে, বর্তমানে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। হাসপাতালের বাইরে মানুষ দাঁড়িয়ে দোয়া করছে, বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষ তার রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা করছে—এসব দৃশ্য প্রমাণ করে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের আবেগ কতটা গভীর। এসব ভালোবাসা ও প্রার্থনা গ্রহণ করে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তবে তারেক রহমানের পোস্টের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তার মন্তব্য। তিনি লেখেন, সংকটের এমন সময়ে যেকোনো সন্তানের মতো তারও মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রবল; মায়ের স্নেহস্পর্শ অনুভব করার তীব্র ইচ্ছা তার প্রতিটি মুহূর্তে আরও তীব্র হয়ে উঠছে। কিন্তু এ ইচ্ছা বাস্তবে রূপ নেওয়ার প্রশ্নটি তার একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। রাজনৈতিক বাস্তবতা, দেশের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয় কারণে তিনি একাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, এই মুহূর্তে দেশে ফিরে আসা শুধু আবেগ বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না; এর সাথে জড়িত রয়েছে জটিল কিছু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিবেচনা, যা তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগও সীমিত বলে উল্লেখ করেছেন।

তারেক রহমান বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন সহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন তার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে এবং তিনি দেশে ফিরতে পারবেন। তিনি উল্লেখ করেন, বহুদিন ধরে তিনি অপেক্ষা করে আছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আলো দেখতে আশাবাদী। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে—রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোন জটিলতা বা সীমাবদ্ধতা তার দেশে ফেরার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

এদিকে, চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে নতুন সংক্রমণ দেখা দিলে এবং হৃদ্‌যন্ত্রে জটিলতা বাড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে বহুবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও এবার পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সিসিইউতে প্রতিটি ঘণ্টায় তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে, যা তাকে যে কোনো সময় আরও জটিল ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে পুরো পরিবেশই এখন অত্যন্ত সতর্ক। বিএনপির পক্ষ থেকে জনসমাগম না করার অনুরোধ জানানো হলেও অনেকেই দূর থেকে এসে হাসপাতালে দাঁড়িয়ে দোয়া করছেন। বিভিন্ন মানবিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান চলছে। দেশের মানুষের এই প্রার্থনা ও আবেগ যে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে তার অবস্থান ও গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে, সেই বাস্তবতাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমান আরও লিখেছেন, তার পরিবার সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে, তিনি যেন বেগম খালেদা জিয়াকে দ্রুত সুস্থ করে তোলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের মানুষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন অব্যাহতভাবে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া চালিয়ে যান। তাদের বিশ্বাস, অগণিত মানুষের প্রার্থনা, চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং আল্লাহর রহমতে তার মা আবার সুস্থতার পথে এগিয়ে যাবেন।

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, তারেক রহমানের আবেগঘন পোস্ট এবং দেশে ফেরা নিয়ে তার বক্তব্য—এসব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন উত্তাপ অনুভব করছে। অনিশ্চয়তা, প্রত্যাশা, উদ্বেগ এবং প্রার্থনার এক সম্মিলিত চিত্র এখন দেশের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা নিয়ে দেশবাসীর অপেক্ষা যেন ক্রমশ দীর্ঘতর হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত