গাজীপুরের ঝুট গোডাউনে ফের অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে স্থানীয়রা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
গাজীপুরের ঝুট গোডাউনে ফের অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে স্থানীয়রা

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকার পূর্বপাড়া সম্প্রদায় আবারও আতঙ্কে ভেসেছে, যখন সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় পলাশ মিয়ার মালিকানাধীন একটি ঝুট গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুনের শুরুতে তারা নিজেরাই চেষ্টা করেছিলেন আগুন নেভানোর, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পরে ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে বাধ্য হন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক সময়ে গোডাউনের ভিতরে থাকা ঝুটের পরিমাণের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া এবং আগুন গোডাউনের ছাদ ও দেয়াল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, ভোরের অন্ধকার এবং হঠাৎ লেগে থাকা আগুনের কারণে অনেকেই প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে আশেপাশে দৌড়ে বের হন। তারা চিৎকার করে অন্যদের সতর্ক করতে থাকেন এবং নিজস্ব যন্ত্রপাতি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। তবে আগুন তীব্রতার কারণে স্থানীয়দের চেষ্টা কার্যকর হয়নি।

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো দ্রুত কার্যক্রম শুরু করে। তারা পানির চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আশপাশের অন্যান্য গোডাউন ও বাড়ি আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন সাংবাদিকদের জানান, “আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। আমরা তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষে জানা যাবে।”

সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই অঞ্চলে আগুনের ঘটনা নতুন নয়। পূর্ববর্তী কয়েক বছরে গোডাউনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তাই এখনকার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে পুনরায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বাসিন্দারা বলেন, “আগুন লাগার সময় সবকিছু এমন তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ছিল যে আমরা কিছুই উদ্ধার করতে পারিনি। অনেকেই শুধু নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।”

গাজীপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ঝুটের মতো দহনযোগ্য জিনিসপত্র সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। তাদের মতে, গোডাউনের মালিকরা প্রায়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করেন। এতে ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকে। তারা আশা করছেন, ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের মাধ্যমে গোডাউনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুন লাগার সময় গোডাউনে কোনো মানুষ ছিলেন না। ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নেভানোর সময় উপস্থিত ফায়ারফাইটাররা বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে আগুনের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তাদের দ্রুত এবং পেশাদারিত্বপূর্ণ উদ্যোগে আশপাশের এলাকা আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর গোডাউনের মালিককে আংশিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ চালাবে। এতে গোডাউনের মালিকরা দায়িত্বশীলভাবে ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে পারবেন।

গাজীপুরের পূর্বপাড়া এলাকার মানুষরা এখনও আতঙ্কের মধ্যে আছেন। বিশেষ করে ভোরের সময় ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ড তাদের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে এটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও মানবজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংক্ষেপে, গাজীপুরে পুনরায় ঝুট গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা ও দ্রুত কার্যক্রমের ফলে বড় ধরনের মানবিক ক্ষতি এড়ানো গেলেও, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং গোডাউনের মালিকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিত হতে পারে এবং এতে ব্যবসায়িক ও মানবিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত