ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৬ বার
ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল শুরু করে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ মূলত সরকারের প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বা ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর স্বকীয়তা, পরিচিতি এবং দীর্ঘ দিনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ এবং ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকা কলেজসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলো বহু বছরের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করছে। শত বছরের ইতিহাস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো যে সুনাম অর্জন করেছে, তা হঠাৎ করে নতুন কাঠামোর কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। শিক্ষার্থীরা বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর প্রবর্তনের প্রক্রিয়ায় তাদের মতামত নেওয়া হয়নি। এক শিক্ষার্থী সংবাদকর্মীদের বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলিং পদ্ধতিতে নয় বরং বিদ্যমান অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তিতে করা হোক।”

সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। আন্দোলনের কারণে মিরপুর সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকার ব্যবসায়ীরা আপাতত স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাহত হন। শিক্ষার্থীদের মতে, নতুন কাঠামো চাপিয়ে দিলে প্রশাসনিক জটিলতা, শিক্ষক সংকট এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়, তবে কলেজগুলোর ঐতিহ্য ও ব্র্যান্ড বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

সরকার মূলত রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সাতটি কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ। সরকার বলছে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ হ্রাস করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২ নভেম্বরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় ইন্টারডিসিপ্লিনারি কাঠামো চালু করা হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় কলেজগুলোকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করা হবে, যেখানে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর তিনটি পর্যায়ের পাঠদান কার্যক্রম চলবে। তবে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কলেজগুলোর দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা মান এবং স্বতন্ত্র পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অংশীজনদের মতামত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। সংসদ না থাকায় বর্তমান সরকার অধ্যাদেশ আকারে আইন জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে। খসড়ায় সাত কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়। শিক্ষার্থীদের মতে, এই প্রস্তাবনায় তাদের মতামত বা যেকোনো প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা হয়নি, যা তাদের মধ্যে অসন্তোষের মূল কারণ।

এদিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা নতুন কাঠামোর বিরোধিতা করছেন, যাতে ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর স্বকীয়তা, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা চাই, সরকার আমাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের জন্য existing কলেজগুলোকে ধ্বংস করা উচিত নয়।”

স্থানীয় প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সংক্ষেপে, ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ সরকারের প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট প্রতিবাদ। শিক্ষার্থীরা তাদের ঐতিহ্য, স্বকীয়তা ও শিক্ষার মান রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আন্দোলনের মাধ্যমে তারা আশা করছেন, প্রশাসন তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেবে, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত