প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো আধুনিকায়নের জন্য নবম পে স্কেল প্রণয়নে কমিশন সর্বশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে চার দফায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় মতামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে পে কমিশন। সূত্র জানায়, এই সভায় ৭০ জনেরও বেশি সচিব অংশগ্রহণ করেছেন এবং পে স্কেল সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন।
কমিশনের এক কর্মকর্তা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জানিয়েছেন যে, সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল। “সকল সচিবকে এক সঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়, তাই আমরা চার ধাপে বৈঠক করেছি। প্রতিটি ধাপে ১৭ জনের বেশি সচিব অংশ নিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন। এখন এসব মতামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে,” তিনি বলেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নবম পে স্কেলের সুপারিশ প্রণয়নে শুধুমাত্র আকাশচুম্বী বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও সংগতিপূর্ণ সুপারিশ করা হবে। সচিবদের মতামত অনুসারে, বেতন কাঠামোর এমন পরিবর্তন আনা প্রয়োজন যা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করবে।
কমিশন ইতোমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে সাধারণ জনতা ও বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করেছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) জানা গেছে, এ পর্যন্ত আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এসব মতামত কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং গ্রেড ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিক পরিবর্তনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রথমবার সচিবদের সঙ্গে বৈঠক শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান গণমাধ্যমকে জানান, আলোচনার প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ হলেও সবাই উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাই পরবর্তী ধাপেও তাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
সূত্র আরও জানায়, কমিশনের সদস্যরা বর্তমানে পূর্ণোদ্যমে কাজ করছেন এবং ইতোমধ্যে কাজের অর্ধেকেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন সতর্কভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ পরীক্ষা করছে যাতে সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থ ও দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় থাকে।
নবম পে স্কেল প্রণয়নের এই উদ্যোগ দেশের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরির আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মীদের মানসিক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুষ্ঠু ও বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পে স্কেল চূড়ান্ত করা হলে সরকারি খাতে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও সহায়ক হবে।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সুপারিশে সংযোজন ও পরিবর্তন সব সময়ের জন্য স্থায়ী হবে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা, বাজেটের সক্ষমতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক বিবেচনা করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনমতো সংশোধন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সচিবদের মতামত এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নবম পে স্কেলের সুপারিশ প্রণয়নের সময় সচিবদের সঙ্গে চার দফায় মতবিনিময় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু সরকারি কর্মচারীদের সুবিধার বিষয় নয়, বরং দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যদি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনে, তবে কর্মক্ষেত্রে উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারি খাত আরও কার্যকরী হবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে সচিবরা বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। এই আলোচনায় পে কমিশন নিশ্চিত করেছে, সুপারিশ চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, আগামী মাসেই চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়া সম্ভব হবে এবং দেশের সরকারি কর্মচারীরা উপযুক্ত সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
সংক্ষেপে বলা যায়, নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রস্তাবনা প্রণয়নের জন্য কমিশন সচিবদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে মতামত সংগ্রহ করেছে। এটি একটি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া হলেও দেশের সরকারি কর্মচারীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও কর্মচারীদের স্বার্থের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য স্থাপন করতেই কমিশন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।










