প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি গ্রামে মঙ্গলবার ভোরে ২৫ বছর বয়সী যুবক সোহেলকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা ভোরে খরার মাঠে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সোহেলের লাশ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
নিহত সোহেল বেলগাছি গ্রামের বকচরপাড়ার বাসিন্দা ও আসাবুল হকের ছেলে ছিলেন। পেশায় তিনি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং গ্রামে শান্তিপ্রিয় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, হত্যাকাণ্ডটি ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পূর্ববর্তী বিরোধের জেরেই সংঘটিত হতে পারে। যদিও প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
নিহতের পিতা আসাবুল হক জানান, স্থানীয় তাহেরের ছেলে ফারুকের সঙ্গে সোহেলের ছোট একটি দ্বন্দ্ব ছিল। বিষয়টি ছিল একটি পেয়ারা বাগানে ঘটেছে। কেউ হয়তো পেয়ারা খাওয়ার বা বাগানের একটি ডাল ভাঙার কারণে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। ফারুক পূর্ব থেকেই সোহেলকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল এবং অভিযোগ অনুযায়ী, সে তার হুমকাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। আসাবুল হক জানান, তিনি আইনের মাধ্যমে হত্যার বিচার চাইবেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের ওসি(তদন্ত) হোসেন আলী বলেন, “একজন যুবককে জবাই করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শীঘ্রই দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।” তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করছেন, ছোট-বড় বিরোধে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা কীভাবে সংঘটিত হতে পারে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
সোহেলের পরিবার গভীর শোক ও ক্ষোভে মেতে রয়েছে। মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় শেষকৃত্যের কাজ সম্পন্ন করেছেন। গ্রামের মানুষও নিহত যুবকের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন। গ্রামের পরিবেশ কিছুটা স্তব্ধ এবং আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের বন্ধু ও প্রতিবেশীরা বলেন, সোহেল ছিলেন পরিশ্রমী ও শান্তিপ্রিয়। তিনি গ্রামে সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এই হঠাৎ হত্যাকাণ্ড তাদের সকলকে গভীরভাবে শোকস্তব্ধ করেছে। তারা প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। পুলিশ জানায়, হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতার সূত্র রয়েছে, তবে প্রকৃত কারণ ও ঘটনা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা এবং আশপাশের গ্রামগুলোর জন্য একবারে শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে এটি গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তিগত বিরোধ ও ছোটখাট দ্বন্দ্বের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুততার সঙ্গে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা প্রত্যাশিত।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। তারা আশা করছেন, সমাজে আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গ্রামীণ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুনরায় এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানো রোধ করা সম্ভব হবে।