ছাত্রদল: সাদিক কায়েমের মামলা নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রকাশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬২ বার
সাদিক কায়েম

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ছাত্রদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাদিক কায়েম শিক্ষার্থীদের অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছেন এবং আইনকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিক কায়েম কতিপয় ফেসবুক আইডি ও পেইজের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলা শুধু মিম পেইজ বা ট্রল পেইজ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটি ছাত্রশিবিরের অসহিষ্ণুতা এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের প্রকাশ।

ছাত্রদল জানায়, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী আমলের সাইবার আইন বিলুপ্ত করে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে সাইবার আইনে মানহানি সংক্রান্ত কোনো মামলা দায়ের করার সুযোগ নেই। তবু সাদিক কায়েম এই আইনকে অপব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তার মামলা কোনো আইনের অধীনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গন্যযোগ্য নয় এবং উদ্দেশ্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২৮ ধারা অনুযায়ী, কেউ জেনেশুনে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগকারী সেই অপরাধের জন্য শাস্তির আওতায় আসবে। সম্প্রতি সাদিক কায়েম একজন বিএনপি নেতাকে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। তার অনুসারীরা অনলাইনে নারীদের হেনস্থা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সংঘবদ্ধ সাইবার সন্ত্রাস চালাচ্ছে।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সাদিক কায়েমকে আইনি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করতে, মামলা প্রত্যাহার করতে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করা জরুরি এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে এই স্বাধীনতা হরণ করা চলবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অঙ্গ। শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাদিক কায়েমের এই মামলা শিক্ষার্থীদের উপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করছে এবং শিক্ষার পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ছাত্রদল আশা প্রকাশ করেছে, প্রশাসন বিষয়টি নজরে নেবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক অধিকার রক্ষা করবে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিবেশে এই ঘটনার গুরুত্বও বলা হয়েছে। বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক চাপ ও হয়রানি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ছাত্রদল সতর্ক করেছে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনের অপব্যবহার যদি unchecked থাকে, তাহলে তা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ছাত্রদল পুনরায় জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছে যে, সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের দমন, মামলা বা হয়রানি চালানো রাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। ছাত্রদল আশ্বাস দিয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে এবং স্বাধীন মতপ্রকাশ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত