অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমা ৭-৮ মাসই: মৌলিক সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৯০ বার
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমা ৭-৮ মাসই: মৌলিক সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুব বেশি দিন ক্ষমতায় থাকবে না—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার আগামী ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে দায়িত্ব শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। তবে এই সীমিত সময়ের মধ্যেই কিছু জরুরি ও মৌলিক অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বা মাঝারি মেয়াদের কোনও প্রকল্প বা সংস্কারে তারা এখন যাচ্ছেন না।

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং সামিট’-এ ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শাসনে এফআরসির ভূমিকা ও প্রভাব’ শীর্ষক এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনায় ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা খুবই সিরিয়াস কিছু মৌলিক সংস্কার করতে। যতটুকু কাজ শুরু হয়েছে, তা যথাসম্ভব বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। কিন্তু এটি সহজ নয়। আমরা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছি, যেগুলোর অনেকটাই বাইরে থেকে বোঝা যায় না।”

সংস্কারের এই সময়কালে দেশের ব্যবসায়ী মহল ও বৈদেশিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তারা আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছেন, সহযোগিতাও করছেন। এটি আমাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সহায়তা অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মানসুর, ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সোলেয়মান কুলিবালি প্রমুখ।

সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। সেখানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের লিড গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট সুরাইয়া জান্নাত।

আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইনস্টিটিউটের (আইসিএবি) সভাপতি এন কে এ মবিন এবং কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইনস্টিটিউটের (আইসিএমএবি) সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানজুড়ে বক্তারা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বক্তারা বলেন, ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং, অডিট ব্যবস্থাপনা এবং করব্যবস্থার সংস্কার অর্থনৈতিক শাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয় যে, বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য একান্তভাবে স্বল্পমেয়াদি সময়ের মধ্যেই কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে একটি স্থিতিশীল ভিত্তি রেখে যাওয়া, যা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর জন্য একটি কার্যকর রূপরেখা তৈরি করবে। এটি যেন শুধুই একটি ‘তদারকি সরকার’ না হয়ে বরং দায়িত্বশীলতা ও সংস্কারে প্রতিশ্রুত একটি রূপান্তর-পর্ব হয়ে ওঠে—এই বার্তাই যেন উঠে আসে তার বক্তব্যে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত