বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্প বাংলাদেশে কম্পন অনুভূত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭০ বার
রাজধানীতে ভূকম্পন অনুভূত

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়। এ সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের মিনজিন এলাকায়, যা রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ছিল। বাংলাদেশের রাজধানী থেকে প্রায় ৪৩১ কিলোমিটার দূরে এই ভূকম্পনের কেন্দ্রবিন্দু অবস্থিত। যদিও ভূমিকম্পটি তীব্রতা ও গভীরতার দিক থেকে মারাত্মক ছিল না, তা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়িঘর ও স্থাপনা কেঁপে উঠেছিল।

ভূমিকম্প সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, রাতের এই কম্পন মূলত মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে। তবে স্থানীয় জনগণসহ রাজধানীর সাধারণ মানুষ রাতের অন্ধকারে কম্পন অনুভব করে আতঙ্কিত হয়েছেন। শহর ও গ্রামে অনেকেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদিও রিখটার স্কেলে ৪–৫ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত তীব্র ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয় না, তবুও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির ওপর নির্মিত পুরনো ভবন বা অবকাঠামোগত দুর্বলতা থাকায় প্রাথমিকভাবে অল্প ক্ষতি ঘটতে পারে।

এছাড়াও ভারতের ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে বঙ্গোপসাগরে ৪.২ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ২০.৫৬ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২.৩১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে, যার গভীরতা ৩৫ কিলোমিটার। সূত্রের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূ-সুনামি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি এবং ভারতের মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমিকম্প সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী এলাকায় ভূ-সৈকতের কাছাকাছি ছোট ছোট কম্পনও মাঝে মাঝে অনুভূত হয়। তবে মৃদু কম্পন হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি খুবই সীমিত থাকে।

বাংলাদেশে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ভূমিকম্পের ঘটনা পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে, ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল কেঁপে ওঠে। এই ভূমিকম্পে বিভিন্ন ভবনে ফাটল ধরার খবর পাওয়া যায় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০ জনের প্রাণহানি হয়। এছাড়াও ২২, ২৩ ও ২৬ নভেম্বরেও দেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানান, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো ভূ-টেকটনিক সক্রিয় এলাকায় পড়ে। বঙ্গোপসাগরও ভূ-সক্রিয় জোনের অংশ হিসেবে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকে। তাই স্থানীয় জনগণকে প্রাথমিক প্রস্তুতি ও সচেতনতা অবলম্বন করতে বলা হয়। বিশেষ করে রাতে বা ঘুমন্ত অবস্থায় ভূমিকম্প অনুভূত হলে প্যানিক বা আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিসমোলজিস্টরা মন্তব্য করেছেন, যদিও সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোর তীব্রতা মারাত্মক নয়, এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের ভূমিকম্প সক্রিয় অঞ্চলগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি ও সতর্কতা অপরিহার্য। তারা আরও বলেন, দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরকে অবশ্যই স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনসাধারণকে সচেতন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে মানুষ এই কম্পন অনুভব করে আতঙ্কিত হয়েছেন। ঢাকায় রাতের অন্ধকারে অনেক মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন। চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা এবং বরিশালসহ দেশের অন্যান্য অংশেও এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করেছেন, ভূমিকম্পের সময় বাড়ির ভিতরে অথবা উচ্চ ভবনে থাকলে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিতে এবং প্যানিক না করতে।

উপসংহার হিসেবে বলা যায়, মৃদু ভূমিকম্পের এই ঘটনা বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা। যদিও তা মানব প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠেনি, তবে এটি ভূ-সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব ও জরুরি প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে। বিশেষজ্ঞরা পুনরাবৃত্তি কম্পনের ক্ষেত্রে বাড়িঘর ও জনসাধারণকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত