মেহেরপুর সীমান্তে বিএসএফ ৩০ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে দিল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
মেহেরপুর সীমান্ত

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৩০ জন বাংলাদেশিকে পুশ ইন করেছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ভোরে এই ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জেলার নাগরিক।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তেঁতুলবাড়িয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমানারেখার ১৪০/৬ এস পিলারের আনুমানিক ১০০ গজ ভেতরে ৩০ জনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে পাঠানো হয়। পুশ ইন হওয়া এই ব্যক্তিরা বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছিল।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পুশ ইন হওয়া ৩০ জনের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৪ শিশু রয়েছে। তারা ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এবং পরে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হয়ে কলকাতা কারাগারে রাখা হয়েছিল। এরপর বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে ফিরিয়ে দেয়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি ইসরাইল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অনুপ্রবেশ ও পুশ ইন-এর ঘটনা আগে থেকেই সঙ্গতিপূর্ণ সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। স্থানীয় প্রশাসন এবং বিজিবি সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল অভিযান পরিচালিত হলেও, দালাল চক্র সীমান্তের সুযোগ নিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে।

স্থানীয় জনগণ জানান, সীমান্তে এই ধরনের ঘটনা সামাজিক ও মানবিক দিক থেকে উদ্বেগজনক। পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিরা প্রায়শই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে, জীবন-জীবিকা ও শিক্ষা সংক্রান্ত সুযোগের সন্ধানে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রাকৃতিক ঝুঁকি, সীমান্তে সশস্ত্র টহল এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা যাচাই করা হয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সীমান্ত এলাকায় নাগরিকদের নিরাপদ ফিরিয়ে আনা এবং অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

পুশ ইন ঘটনার ফলে স্থানীয় প্রশাসন আরও সতর্ক হয়েছে। বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে সীমান্ত এলাকায় টহল অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত সভা ও তথ্য সেশনও চালানো হচ্ছে।

মানবিক দিক থেকেও পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিদের পরিস্থিতি বিশেষ নজরে রাখা হয়। শিশু ও নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সীমান্তে বিপর্যয় এড়াতে বিজিবি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করে।

এ ঘটনায় সীমান্তের নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগণের জীবিকার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ পথ ও জীবনধারণের জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালাচ্ছেন। বিজিবি জানায়, পুশ ইন প্রতিরোধে সীমান্তে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত টহল দল ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সংক্ষেপে, মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশিকে পুশ ইন করেছে বিএসএফ। ভারতীয় সীমান্তে আটক হওয়া এই ব্যক্তিরা পরে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত