৯৯৯ কল করে ফরিদপুরে দুই শিশুকে বাঁচালো ফায়ার সার্ভিস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৩ বার

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার খালাসীডাঙ্গি বাবুরচর এলাকার এক সাধারণ মানুষ দুপুরের সাধারণ দিনটিকে অস্বাভাবিক করে তোলে শুধুমাত্র একটি ফোনকলে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ করা সেই ফোনকলই দুই শিশুর জীবনে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে। সাড়ে তিন বছর বয়সী বড় শিশুটি ও দেড় বছরের ছোটটি ঘরের পুরু স্টিলের দরজা ভেতর থেকে লক করে ফেলায় তারা আটকা পড়ে যায়। তাদের চিৎকার, দরজার পিছনে অসহায় ঠোকাঠুকি এবং ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠা পরিস্থিতি প্রমাণ করে দেয় শিশুরা কতটা ভীত ছিল সেই মুহূর্তে।

শিশুদের বাবা-মা যখন অনুভব করতে থাকেন যে ঘরটির দরজা ভাঙা তাদের পক্ষে অসম্ভব এবং প্রতিটি মুহূর্তে শিশুরা আরও ভয় পাচ্ছে, তখনই তাদের ভরসা হয়ে ওঠে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। ফোন ধরে অপর প্রান্ত থেকে সাড়া দেন কলটেকার কনস্টেবল আবু জিহাদ সরকার। তিনি মনোযোগ দিয়ে পরিস্থিতি শুনে বুঝতে পারেন, বিষয়টি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোচ্ছে এবং শিশুদ্বয়কে দ্রুত উদ্ধার করা জরুরি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সদরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেন।

৯৯৯-এর ফায়ার ডিসপ্যাচার ফাইটার মেহেদি হাসান উদ্ধার তৎপরতার সার্বিক সমন্বয় করতে থাকেন। তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিস দলকে নির্দেশ দেন এবং উদ্ধার প্রক্রিয়ার ধাপগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। অন্যদিকে, ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত রওনা হয়ে পৌঁছে যান খালাসীডাঙ্গি বাবুরচর এলাকার সেই বাড়িতে, যেখানে আতঙ্কের মাঝে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল দুটি শিশু।

ঘরের দরজাটি স্টিলের হওয়ায় সেটি ভাঙতে গেলে সময় বেশি লাগত, যা শিশুদ্বয়ের মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করতে পারত। তাই ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশের। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জানালা ভেঙে শিশুদ্বয়ের কাছে পৌঁছান, যাতে কোনো ধাতব অংশ বা কাচের টুকরায় শিশুদের আহত হওয়ার সুযোগ না থাকে। শেষ পর্যন্ত সফলভাবে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের সময় শিশুদের চোখে ছিল আতঙ্কের ছায়া, কিন্তু ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কোলে উঠতেই সেই চোখে নিরাপত্তার বিশ্বাস ফিরে আসতে শুরু করে। শিশুদ্বয়ের বাবা-মা তাদের সন্তানদের সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। এই ঘটনার পর তারা ৯৯৯-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নানা ধরণের বিপদাপন্ন অবস্থায় মানুষের সহায়তা করে আসছে। কখনো দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার, কখনো অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, আবার কখনো নিখোঁজ ব্যক্তি সন্ধান অথবা আটকে পড়া মানুষকে মুক্ত করা—সব ক্ষেত্রেই ৯৯৯ হয়ে উঠেছে মানুষের দ্রুততম ভরসার কেন্দ্র। এই ঘটনার মধ্যেও স্পষ্ট যে, ৯৯৯ শুধুই একটি নম্বর নয়; বরং মানুষের জীবনের সংকটমুহূর্তে একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ছাতা।

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযানটি শিশুদের জীবনই শুধু রক্ষা করেনি, বরং মানুষের মনে আরও একবার বিশ্বাস জাগিয়েছে যে জরুরি মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় এই সেবাটি পাশে থাকে। খালাসীডাঙ্গি এলাকার মানুষজনও উদ্ধার তৎপরতা সরাসরি দেখে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করেন, যদি শিশুদ্বয় আরও দীর্ঘসময় ঘরে আটকা থাকত, তাহলে শারীরিক বা মানসিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

৯৯৯-এ করা একটি ফোনকল আবারও প্রমাণ করল, জরুরি সেবা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নয়, বরং মানবিক দায়িত্ব, সরকারি আন্তরিকতা এবং দ্রুততম কার্যক্রমের সমন্বিত ফল। দুই শিশুর কান্না থেমেছে, বাড়িতে ফিরে এসেছে শান্তি, আর মানুষের মনে আরও একবার দৃঢ় হয়েছে রাষ্ট্রীয় সেবার প্রতি আস্থা।

এই ঘটনার মাধ্যমে দুই শিশুর পরিবার ছাড়াও দেশের অসংখ্য মানুষের কাছে এক বড় শিক্ষা পৌঁছেছে—সংকটমুহূর্তে ৯৯৯-এ ফোন করলে তৎক্ষণাৎ সাহায্য পাওয়া যায় এবং অনেক সময় একটি সিদ্ধান্তই বাঁচাতে পারে মূল্যবান জীবন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত