প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশে জুলাই মাসকে বর্ষার সবচেয়ে প্রাবল্যময় ধাপ হিসেবেই ধরা হয়। বছরের এ সময়টিতেই দেশের কৃষি ও জনজীবন বৃষ্টির জলে সিক্ত হয়ে ওঠে। সাধারণত এই মাসে দেশের গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫২৩ মিলিমিটার, যা জুনের গড় বৃষ্টিপাত ৪৫৯ দশমিক ৪ মিলিমিটারের চেয়ে অনেকটাই বেশি। আর মে মাসে গড়ে থাকে ২৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি। কিন্তু চলতি বছর বর্ষার এই পরিচিত চেহারাটি স্পষ্টতই বদলাতে শুরু করেছে। মে মাসেই গড়ে ২৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃতি যেন সব হিসাব উলটে দিয়েছে—মে মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮৬ মিলিমিটার।
তবে সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, জুলাইয়ে এখনো স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতই রেকর্ড হচ্ছে। দেশের সিনিয়র আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি হলেও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির খরা তৈরি হয়েছে। রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে বৃষ্টি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এমনকি বৃষ্টির জন্য বিখ্যাত সিলেটেও বৃষ্টির পরিমাণ আশানুরূপ নয়। ফলে জুলাই মাস শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ধারা থেকে কিছুটা পিছিয়েই থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়ার বিশ্লেষকরা এখনো পুরো মাসের চূড়ান্ত গড় বৃষ্টিপাত নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন। কারণ এখনো কিছুটা সময় বাকি। আবহাওয়াবিদদের মতে, মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত গড় বৃষ্টিপাতের তথ্য পর্যালোচনা করে পরে সুনির্দিষ্ট ধারণা দেওয়া সম্ভব হবে।
অন্যদিকে জুন মাসের চিত্রও খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। জুনে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে, যা দেশের কৃষির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিলেট বিভাগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সাধারণত সিলেটেই দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়, অথচ এবার সেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৯ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। একইভাবে দেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিভাগেও বৃষ্টিপাত কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদিও জুনে বৃষ্টি কমেছে, জুলাইয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে দেশে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে অন্তত একটি মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এসব লঘুচাপ যদি কার্যকর হয়, তাহলে বৃষ্টি কিছুটা স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে পারে বলে আশাবাদী আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
তবে আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীশাসন ও স্থানীয় ভৌগোলিক পরিবর্তনকে বিশেষজ্ঞরা বারবারই দায়ী করে আসছেন। ফলে দেশের কৃষি, সেচ ব্যবস্থা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন—সব কিছুই এখন ক্রমেই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। দেশের মানুষের জন্য তাই প্রকৃতির এ বার্তা বৃষ্টির স্বস্তি নয়, বরং অনিশ্চয়তার নতুন হিসাবই খুলে দিচ্ছে।
চলতি মাসে এখনো স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টির প্রবণতা কম
দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে গড়ে ৫২৩ মিলিমিটার। এর পরই বেশি বৃষ্টি হয় জুন মাসে ৪৫৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার। মে মাসে গড় স্বাভাবিক বৃষ্টি হয় ২৯৮ মিলিমিটার। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন মে মাসে হয়েছে ৪৮৬ মিলিমিটার।
সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বলছেন, এবার জুলাই মাসে শুধু দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে জুলাই মাসে সারাদেশে গড়ে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা তা এখনো স্বাভাবিকের চেয়ে কমই হয়েছে। কেননা,আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা সিলেটেও পরিমাণে কম বৃষ্টি। সেহেতু এবার জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে।
তবে চলতি মাসে ৯ তারিখ নাগাদ গড় বৃষ্টিপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরে দেখে বলতে পারবো।
এবার জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে সিলেট বিভাগে। সিলেট সাধারণত বৃষ্টি প্রবণ এলাকা, এখানে সবচেয়ে বেশি হয়। কিন্তু গত মাসে এই বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৯ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। আর ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টি কম হয়েছে ৩৩ শতাংশ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জুলাই মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলছে, জুনে কম বৃষ্টি হলেও এবার জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া চলতি মাসে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।