সর্বশেষ :
মৌলভীবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দিনভর কর্মসূচি রোনালদোর পাশে থাকতে পারা সম্মানের বললেন মেসি শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে প্যান্ডেল ভেঙে পড়ল নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ যুবলীগ নেতা শেখ আরাফাত গ্রেপ্তার ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই জর্ডানকে হারাল অস্ট্রিয়া মেসির হ্যাটট্রিকে ক্লোসের বিশ্বকাপ গোল রেকর্ড স্পর্শ শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় জনসমুদ্র আগে ক্লিন, পরে গ্রিন—ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর: উত্তর সিটির প্রশাসক চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল

নতুন গভর্নর নিয়োগ স্থগিত চাওয়া হাইকোর্টে রিট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৬১ বার
নতুন গভর্নর নিয়োগ স্থগিত চাওয়া হাইকোর্টে রিট

প্রকাশ: ০৫ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ এবং নতুন গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন। রিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নতুন নিয়োগ স্থগিত করার পাশাপাশি সেই নিয়োগ বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। এ রিটে অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকার ড. আহসান এইচ মনসুরকে পদচ্যুত করে মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রথম প্রজ্ঞাপনে গভর্নর পদে ড. আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট সময় বাতিল করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের শর্তাবলী উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিনি তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এছাড়া তিনি অন্য প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে সমস্ত কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তবে সাবেক গভর্নরের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে নিয়োগবিরোধী এবং প্রক্রিয়াগতভাবে অনিয়মিত বলে দাবি করা হয়েছে। রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, গভর্নর অপসারণ এবং নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়ার বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। হাইকোর্টের মাধ্যমে সাবেক গভর্নরের আইনজীবীরা সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন এবং নতুন গভর্নরের নিয়োগ স্থগিতের নির্দেশ চাইছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন দেশের অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। হঠাৎ পদচ্যুতি এবং নতুন নিয়োগে বাজারে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাইকোর্টের রিটটি গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও মুদ্রানীতি পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বিগত কয়েক বছর ধরে ড. আহসান এইচ মনসুর দেশের অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তার পদচ্যুতি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে নানা সমালোচনা উঠেছে। এই অবস্থায় হঠাৎ নতুন গভর্নরের নিয়োগকে কিছু পর্যবেক্ষক রাজনৈতিক প্রভাব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন গভর্নরের নিয়োগ জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে এবং এটি দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয়।

সাবেক গভর্নরের পক্ষের আইনজীবীরা হাইকোর্টে দাবি করেছেন, অপসারণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ন্যায্যতা এবং আইনানুগ ধাপগুলো মেনে চলা হয়নি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের হঠাৎ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও নীতিনির্ধারণে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া তারা উল্লেখ করেছেন যে, নতুন গভর্নরের নিয়োগ স্থগিত না করলে এটি ব্যাংকের কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে এই হঠাৎ পরিবর্তন শুধুই প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। সাবেক গভর্নরের অভিজ্ঞতা এবং নীতিনির্ধারণের দক্ষতা দেশের মুদ্রানীতি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বর্তমানে হাইকোর্টের সামনে এই রিটের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালত থেকে নির্দেশনা মেনে সরকারকে প্রয়োজনীয় জবাব দিতে হবে এবং তা বিচারাধীন রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিটটি সাড়াসাড়ি নিষ্পত্তি হলে দেশের অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।

সাবেক গভর্নরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এবং জনস্বার্থে এই রিট করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, হাইকোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে নতুন গভর্নরের নিয়োগের বৈধতা এবং পদচ্যুতি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আদালতের নির্দেশ মেনে যথাযথ জবাব প্রদান করবেন।

সংক্ষেপে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন নিয়ে এই রিট বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। নতুন গভর্নরের নিয়োগ স্থগিত চেয়ে সাবেক গভর্নরের রিট দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত এবং ব্যাংকের নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত