প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় আবারও শীর্ষস্থানে উঠে এসেছেন টেসলা, স্পেসএক্স ও টুইটারের মালিক ইলন মাস্ক। মার্কিন ব্যবসা ও অর্থনীতিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের সর্বশেষ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সে সোমবার প্রকাশিত এ তালিকায় মাস্ক তার অবস্থান ধরে রাখেন। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো, এই তালিকা থেকে ছিটকে গেছেন দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থান দখলে রাখা মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।
ধারণা করা হচ্ছে, বিল গেটসের নিট সম্পদের পরিমাণ কমে যাওয়ার মূল কারণ তার বিপুল দান ও দাতব্য খাতে বিনিয়োগ। গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যেই তার আয়ের বড় একটি অংশ সমাজসেবায় ব্যয় করেছেন এবং আগামীতেও প্রায় সমস্ত সম্পদ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর ফলে বর্তমানে তার নিট সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, এবং তিনি নেমে গেছেন ১২তম স্থানে। এর আগে তিনি ছিলেন পঞ্চম স্থানে।
অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য কৃতী উদ্যোক্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী স্টিভ বালমার উঠে এসেছেন শীর্ষ পাঁচে, যার সম্পদের পরিমাণ এখন ১৭ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী ইলন মাস্কের মোট সম্পদ বর্তমানে ৩৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার, যা তাকে টানা শীর্ষে রাখার জন্য যথেষ্ট। তার পরে রয়েছেন ফেসবুক ও মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, যার সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে। তালিকায় আরও আছেন প্রযুক্তি ও বাণিজ্য জগতের নামী উদ্যোক্তারা—অরাকলের ল্যারি এলিসন, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, গুগলের ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রেইন, এলভিএমএইচের বেরনার্ড আর্নল্ট, ইনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং ডেল টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধনীদের সম্পদের উত্থান ও পতন বিশ্ব অর্থনীতির বাস্তবতায় যেমন ইঙ্গিত দেয় প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের গুরুত্ব, তেমনি দান ও সমাজকল্যাণমূলক কাজেও বিশ্বে কিছু রোল মডেল সৃষ্টি করেছে। বিল গেটসের মতো একজন শীর্ষ ধনীর তালিকা থেকে সরে যাওয়া এবং তার সম্পদ দানের প্রতিশ্রুতি একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এদিকে, ব্লুমবার্গের তালিকায় থাকা নতুন নামগুলোর মধ্যে জেনসেন হুয়াংয়ের অগ্রগতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ইনভিডিয়ার এই সহ-প্রতিষ্ঠাতা চিপ নির্মাণ খাতে যুগান্তকারী অগ্রগতির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নিয়েছেন। এ ছাড়া ওয়ারেন বাফেট, যার বিনিয়োগ সাম্রাজ্য বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের মাধ্যমে পরিচালিত, তিনি এখনও নিজস্ব অবস্থান ধরে রেখেছেন, যদিও কিছুটা নিচে নেমে গেছেন।
এই তালিকা শুধু কারা কত ধনী তা জানিয়ে দেয় না, বরং বিশ্ব অর্থনীতির শক্তি কোথায় এবং কোন খাতে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি—সেই নির্দেশনাও দেয়। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-নির্ভর যেসব উদ্যোগে গত এক দশকে বড় বিনিয়োগ হয়েছে, সেখান থেকেই উঠে এসেছে বিশ্বের বর্তমান শীর্ষ ধনীরা।
বিশ্ব যখন প্রযুক্তিনির্ভর চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে এগোচ্ছে, তখন ধনী ব্যক্তিদের সম্পদ পরিবর্তনের এই চিত্র বিশ্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন—যেখানে উদ্ভাবন, দৃষ্টিভঙ্গি, সাহসিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা একত্রে নতুন অর্থনৈতিক ইতিহাস রচনা করছে।