প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডনে চিকিৎসার জন্য যাত্রা সম্ভব হতে পারে আগামী রোববার। তবে তার বিদেশ যাত্রা কেবল তখনই বাস্তবায়িত হবে, যদি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছায় এবং চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থাকে নিরাপদ মনে করেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কারিগরি ত্রুটির কারণে এটি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাতে পারছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার এটি ঢাকায় পৌঁছাবে। মির্জা ফখরুল বলেন, “ম্যাডামের শরীর যদি যাত্রার উপযুক্ত থাকে এবং মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি থাকে, ইনশাল্লাহ ৭ তারিখ (রোববার) তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ফ্লাইটে উঠবেন।”
খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থার উপর নির্ভর করছে তার বিদেশে চিকিৎসা যাত্রার সময়সূচি। এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি এবং তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। চিকিৎসকরা তার জটিল শারীরিক অবস্থার কারণে যাত্রার আগে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা কেবল একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ নয়, এটি রাজনৈতিক ও মানবিক দিক থেকে সমর্থকদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এর প্রভাব এবং জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ, সমর্থন ও আলোচনার প্রসার লক্ষ্য করা গেছে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রস্তুতি এবং তার যাত্রার অনুমতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসক বোর্ডের সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। এই যাত্রা সম্পূর্ণরূপে চিকিৎসা নির্ভর এবং খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। তিনি আরও জানান, দেশের ও বিদেশের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যাত্রার পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে।
এর আগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বিগ্নতার পারদ উর্ধ্বমুখী। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশিত হলেও, সর্বশেষ অবস্থা অনুসারে তার বিদেশ যাত্রা এখনই সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা কেবল চিকিৎসার জন্য নয়, এটি তার পরিবারের ও রাজনৈতিক দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। এই যাত্রা সফল হলে তিনি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশে চিকিৎসা নিলে তার শারীরিক জটিলতাগুলো দ্রুত নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
চিকিৎসক দলের মতে, যাত্রার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, সঠিক মেডিকেল অ্যাসেসমেন্ট এবং বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সরঞ্জাম ও কর্মীবর্গ থাকলে, দীর্ঘ বিমানযাত্রা সত্ত্বেও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।
রাজনৈতিক মহল এবং সমর্থকরা বিষয়টিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা আশা করছেন, রোববারের মধ্যে সবকিছু নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হলে খালেদা জিয়া নিরাপদে লন্ডনে পৌঁছে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। সরকারের পক্ষ থেকেও চিকিৎসা যাত্রা সফল করার জন্য সব ধরনের সমন্বয় ও অনুমোদন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়ার লন্ডনে চিকিৎসা যাত্রা এখন শুধু স্বাস্থ্য বিষয়ক বিষয় নয়, এটি রাজনৈতিক ও মানবিক দিক থেকে সমালোচনা ও আলোচনা তৈরি করেছে। এ যাত্রা সফল হলে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে এবং তার সমর্থকরা আশা করছেন এটি তার স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক জীবনকে সহায়তা করবে।