ঢাকায় পৌঁছেছেন জুবাইদা রহমান : রোববার লন্ডনে যাত্রা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৩ বার
ঢাকায় পৌঁছেছেন জুবাইদা রহমান : রোববার লন্ডনে যাত্রা

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী, প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। ঢাকায় আগমনের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হয়েছেন তিনি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টায় এবং লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তিনি হিথরো বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর মেয়ে জাইমা রহমান, যিনি মা জুবাইদাকে বিদায় জানান। ঢাকায় পৌঁছানো সাপেক্ষে জুবাইদা রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

খালেদা জিয়ার লন্ডনে চিকিৎসা যাত্রা নিয়ে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছানো হয়নি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শুক্রবার ঢাকায় আসতে পারেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব ঠিক থাকলে এটি শনিবার (৬ ডিসেম্বর) পৌঁছাবে। তিনি আরও বলেন, “ম্যাডামের শরীর যদি যাত্রার উপযুক্ত থাকে এবং মেডিকেল বোর্ড যদি সিদ্ধান্ত দেয়, ইনশাল্লাহ ৭ তারিখ রোববার তিনি লন্ডনে চিকিৎসার জন্য ফ্লাই করবেন।”

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, ডা. জুবাইদা রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন এবং যাতায়াতের বিলম্বের কারণে তার লন্ডন যাত্রাও স্থগিত হতে পারে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে চিকিৎসা ও সুরক্ষা দলের মোট ১৮ জন সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্ত থাকবেন। এই দলের মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, ছোট ছেলে কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, এবং অন্যান্য মেডিকেল ও সহায়ক কর্মকর্তা।

বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের নানা সমস্যায় ভুগছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান। এরপর, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। প্রায় ১১৭ দিন লন্ডনে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে গত ৬ মে দেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফেরার পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ, ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানাচ্ছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনের মতে, বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এখনও গুরুতর।

এই পরিস্থিতিতে ডা. জুবাইদা রহমানের ঢাকায় আগমন এবং সবশেষ মেডিকেল পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাতার সরকারের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিৎসক দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করবে যে, খালেদা জিয়ার লন্ডনে চিকিৎসা যাত্রা নিরাপদ ও যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে। রোববার নির্ধারিত ফ্লাইটের মাধ্যমে খালেদা জিয়া লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য এবং বিদেশে চিকিৎসা যাত্রা বাংলাদেশ ও রাজনৈতিক মহলে সর্বাধিক নজরকাড়া বিষয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিপীড়ন ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার মধ্যে, এই যাত্রা কেবল চিকিৎসার নয়, বরং রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক দিক থেকে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে। চিকিৎসক দলের সতর্ক পর্যবেক্ষণ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের নিরাপদ যাত্রা এবং পরিবারের সমর্থন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা যাত্রাকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত