প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা প্রদানের জন্য কাতার সরকারের উদ্যোগে জার্মানি থেকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় কাতার দূতাবাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, আগামীকাল বিকেল ৫টায় জার্মানির ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছাবে। যদিও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি জার্মানি থেকে আসে, তবে এর ভাড়া ও যাবতীয় ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে কাতার সরকারের দায়িত্বে। এটি কাতারের আমিরের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে গৃহীত হয়েছে, যা বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করবে।
এর আগে, কাতারের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কারিগরি ত্রুটির কারণে ঢাকায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিল। বিএনপির মিডিয়া সেল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স না পৌঁছানোয় লন্ডন যাত্রার প্রক্রিয়া কিছুটা স্থগিত আছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বার্তায় জানিয়েছেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এখন শুক্রবার আসতে পারবে না। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে এটি শনিবার ঢাকায় পৌঁছাবে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যদি যাত্রার জন্য উপযুক্ত থাকে এবং মেডিকেল বোর্ড অনুমতি দেয়, তবে আগামী ৭ ডিসেম্বর রোববার তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই জনগণের নজর কাড়ে রেখেছে। দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থতার কারণে তিনি দেশের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি চিকিৎসা সেবার উপর নির্ভরশীল হয়ে আছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, কাতার সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ এবং জার্মানি থেকে পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবে, যা তার পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক জীবনে তার অবস্থান এবং স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে তার অবদান এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা মিলে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাকে দ্রুত এবং নিরাপদভাবে লন্ডনে নেওয়া হবে, যেখানে উচ্চমানের হাসপাতাল এবং চিকিৎসা পরিষেবা তাকে প্রদান করবে।
কাতার দূতাবাসের কর্মকর্তারা আরও জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ব্যবস্থাপনা এবং সাপোর্ট ব্যবস্থা কাতার সরকারের তত্ত্বাবধানে থাকবে। এটি শুধু বিমান পরিবহন নয়, বরং মেডিকেল ইকুইপমেন্ট এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সের সহায়তাসহ একটি সম্পূর্ণ মেডিকেল কনফিগারেশন হিসেবে কার্যকর হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের বিদেশি চিকিৎসার বিষয়টি সমালোচনা ও সমর্থনের দু’ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে মানবিক এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের আগমন ও লন্ডন যাত্রার প্রস্তুতি দেশজুড়ে ব্যাপক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি অনুযায়ী লন্ডন যাত্রা শুরু হবে। যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে যাতে তিনি কোনো ঝুঁকি ছাড়াই উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের আগমন, কাতার সরকারের মানবিক উদ্যোগ এবং জার্মান প্রযুক্তি সমন্বিত এই বিশেষ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।