প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠন এবং সেখানে মানবিক সংকট নিরসনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ১০ কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। বেইজিংয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই অনুদানের ঘোষণা দেন।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠ করেন। চিঠিতে তিনি গাজা ও পশ্চিম তীরের ন্যায্য অধিকার সমর্থন এবং ইসরাইলি দখলদারত্ব কমানোর ক্ষেত্রে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এই চিঠির তথ্য জানিয়েছে।
চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, চীনা প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিন ইস্যুর একটি সর্বসম্মত, ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় গাজার পুনর্গঠন এবং মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য চীন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই উদ্যোগ কেবল অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের কারণে ভাঙাচোরা হয়ে যাওয়া গাজার অবকাঠামো পুনর্গঠন, স্কুল, হাসপাতাল ও বাসস্থান নির্মাণের জন্য এই তহবিল ব্যবহার করা হবে।
ফিলিস্তিনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে চীনের এই সহায়তা মানবিক সংকট কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক তহবিলের মধ্যে চীনের এই অবদান গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া, ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে এটি বিশেষ প্রভাব ফেলবে।
এদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁও এই সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনের পুনর্গঠনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমর্থন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের পদক্ষেপ অন্যান্য দেশকে অনুপ্রাণিত করবে যাতে গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
গাজা ২০২১ সাল থেকে চলমান সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থার কারণে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়হীন ও মানবিক সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের এই ১০ কোটি ডলার সহায়তা গাজার পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, পাশাপাশি স্থানীয় জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা যেমন স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও শিক্ষার জন্য সহায়ক হবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে আছি। আমাদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অর্থ প্রদান নয়, বরং একটি টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা যাতে গাজার পুনর্গঠন দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে এবং মানবিক বিপর্যয় পুনরায় সৃষ্টি না হয়।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সহায়তা গাজার পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে তার কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে চীনের নৈতিক ও মানবিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। ফিলিস্তিনি নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই ধরনের সমর্থন চলমান মানবিক সংকট মোকাবেলায় কার্যকর হবে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুদানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ধ্বংসস্তূপের পুনর্গঠন, হাসপাতাল ও স্কুল পুনরায় চালু করা, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চীনের এই পদক্ষেপ অন্যান্য দেশকেও উদ্দীপ্ত করবে যাতে গাজার মানবিক ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে অবদান রাখে।
চীনের এই সহায়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি প্রেরণামূলক বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের জনগণ এবং গাজা অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য এটি নতুন আশা এবং পুনর্গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।