কিডনি সুস্থ রাখতে প্রতিদিন রাখুন এই ৬টি ফল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
কিডনি সুস্থ রাখতে প্রতিদিন রাখুন এই ৬টি ফল

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কিডনি আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে একটি, যা মূলত রক্ত পরিষ্কার রাখা, পানি–লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। তবে এটি প্রায়ই অদৃশ্য থেকে যায়; কিডনি সুস্থ আছে কিনা তা বাইরে থেকে বোঝা মুশকিল। ভুল খাবারাভ্যাস, কম পানি পান, উচ্চ রক্তচাপ, বা ডায়বেটিস কিডনির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই চাপ কিডনি রোগ, পাথর বা আরও জটিল সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

সুখবর হলো, কিডনিকে সুস্থ রাখতে আলাদা কোনো কঠিন উপায় অবলম্বন করতে হবে না। দৈনন্দিন খাবারের সঙ্গে কিছু সাধারণ ফল যুক্ত করলেই তা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ব্লুবেরি, ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি, আপেল, লাল আঙুর এবং লেবু বা অন্যান্য সাইট্রাসজাতীয় ফল কিডনিকে শক্ত রাখে, প্রদাহ কমায় এবং শরীর পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এগুলোর মধ্যে পটাসিয়াম এবং ফসফরাসের পরিমাণ কম থাকে, ফলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপও পড়ে না।

ব্লুবেরি কিডনির জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এতে থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে অ্যান্থোসায়ানিন, যা কিডনির ভেতরে প্রদাহ কমায় এবং কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। কম পটাসিয়াম, সোডিয়াম এবং ফসফরাসযুক্ত হওয়ায় এটি প্রায় সবার জন্যই নিরাপদ। ব্লুবেরি সকালে ওটস বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়, সালাদে ব্যবহার করা যায় বা স্মুদি বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। ফ্রোজেন ব্লুবেরিও ভালো বিকল্প।

ক্র্যানবেরি বিশেষভাবে মূত্রনালী সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর। এটি ব্যাকটেরিয়া যাতে ব্লাডার বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে আটকে না থাকে, তা রোধ করে। ফলে সংক্রমণ কমে এবং কিডনির ওপর চাপও হ্রাস পায়। ক্র্যানবেরির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিডনির ভেতরের ক্ষতিও কমায়। ক্র্যানবেরি সালাদে, স্মুদিতে বা অল্প চিনি ছাড়া জুস হিসেবে খাওয়া যায়।

স্ট্রবেরিতে প্রচুর ভিটামিন–সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা কিডনিকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন স্ট্রবেরিকে কম পটাসিয়ামযুক্ত নিরাপদ ফলের তালিকায় রেখেছে। এটি সকালের সিরিয়াল বা দইয়ের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে, স্মুদি বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে বা সরাসরি ফল হিসেবে গ্রহণ করা যায়। বিভিন্ন বেরি মিশিয়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট–সমৃদ্ধ ফলের সালাদ বানানোও সম্ভব।

আপেল কিডনির জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এতে থাকে ফাইবার, ভিটামিন–সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পটাসিয়াম ও সোডিয়ামও কম থাকায় এটি কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। আপেল হজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে, রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরের বর্জ্য বের করতে সহায়তা করে, যা কিডনির জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। সরাসরি খাওয়া, সালাদে মিশিয়ে খাওয়া বা হালকা বেক করা যায়। চাইলে উপরে সামান্য দারচিনি ছিটিয়ে খাওয়া যায়।

লাল আঙুরের মধ্যে রয়েছে রেসভেরাট্রল ও অন্যান্য উপকারী উপাদান, যা শরীরের প্রদাহ কমায় এবং রক্তপ্রবাহ উন্নত রাখে। কিডনি রক্ত ছেঁকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে। কম পটাসিয়ামযুক্ত হওয়ায় এটি কিডনির জন্য নিরাপদ। লাল আঙুর নাস্তা হিসেবে খাওয়া যায়, ফ্রিজে ঠান্ডা করে খাওয়া যায় বা ফলের সালাদে ব্যবহার করা যায়।

লেবু, মাল্টা, কমলা—এই ধরনের সাইট্রাসজাতীয় ফল কিডনিতে পাথর জমতে বাধা দেয়। এতে থাকে সাইট্রেট, যা কিডনিকে সুস্থ রাখে। এছাড়া এগুলো শরীর হাইড্রেটেড রাখে এবং ভিটামিন–সি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। লেবু পানি, সালাদ বা রান্নায় ব্যবহার করা যায়। তবে সব কিছুই পরিমিতভাবে গ্রহণ করা উচিত।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই ছয়টি ফল যুক্ত করলে কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব। এটি শুধু কিডনিকে সুস্থ রাখে না, বরং সার্বিক শরীরের কার্যক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুষম ও নিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা কিডনির জন্য অপরিহার্য।

মোটকথা, কিডনিকে সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন খাদ্যেই রয়েছে সমাধান। ব্লুবেরি, ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি, আপেল, লাল আঙুর ও লেবু নিয়মিত গ্রহণ করলে কিডনির সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হয় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যও ঠিক থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত