এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে ১২ দিন কোচিং সেন্টার বন্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার
এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশের মেডিকেল ভর্তি প্রস্তুতিমুখী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের চাপ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভর্তি পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর দেশের সব মেডিকেল কোচিং সেন্টার ১ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই সময়ে কোনও ধরনের অনলাইন কিংবা অফলাইন কোচিং কার্যক্রম চালানো যাবে না। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন।

তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য। এজন্য শুধু কোচিং সেন্টার বন্ধই নয়, স্থানীয় প্রশাসনকে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে পরীক্ষার আগে বা চলাকালীন কোনো ধরনের অনিয়ম, প্রশ্ন ফাঁস কিংবা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত নানা গুজব নিয়ে যে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা মাথায় রেখেই কর্তৃপক্ষ এবার আরও কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত কমিটির সমন্বয় সভায় গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতি বছরই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দৃষ্টি থাকে। অনেকেই দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিলেও অস্বচ্ছ পরিবেশ বা অনিয়মের আশঙ্কায় মানসিক চাপের শিকার হন। তাই এবার পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে আনা এবং কোচিং সেন্টার সাময়িক বন্ধের পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের কাছে যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি এটি পরীক্ষার গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিবেচিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী ১২ ডিসেম্বর সারা দেশেই একযোগে অনুষ্ঠিত হবে এ বছরের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা। গত বছর এমবিবিএস পরীক্ষা হয়েছিল ১৭ জানুয়ারি এবং বিডিএস ২৮ ফেব্রুয়ারি। তুলনামূলকভাবে এবার পরীক্ষা অনেকটা এগিয়ে আনা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সময় কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এই স্বল্প সময়ে শিক্ষার্থীরা যেন অতিরিক্ত চাপের মধ্যে না পড়ে, সেজন্য পরীক্ষার পরিবেশকে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ ও চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষার আগে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আসনসংখ্যায় বড় পরিবর্তন এনেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেডিকেলে আসনসংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকায় এবার তা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে সরকারি ৩৭ মেডিকেলের মধ্যে ১৪টিতে আসন কমানো হয়েছে মোট ৩৫৫টি। অন্যদিকে ৩ মেডিকেলে বাড়ানো হয়েছে ৭৫টি আসন। সব মিলিয়ে সরকারি খাতে ২৮০টি আসন কমে দাঁড়িয়েছে মোট ৫ হাজার ১০০। আসন কমানোর এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, আসন কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেসরকারি ৬৬ মেডিকেল কলেজেও আসনসংখ্যা কমানো হয়েছে ২৯২টি। এতে বেসরকারি খাতে মোট আসন নেমে এসেছে ৬ হাজার ১টিতে। যদিও বেসরকারি মেডিকেলে আসন কমানোর সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের নীতি সংশোধনের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আসনসংখ্যা বেশি থাকলে মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই কমিয়ে মেডিকেল শিক্ষার মান বৃদ্ধির চেষ্টা ইতিবাচক।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, আসনসংখ্যায় এই পরিবর্তন এবং পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে আনার কারণ শিক্ষার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। আন্তর্জাতিকভাবে মেডিকেল শিক্ষার স্বীকৃতি পেতে হলে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি, সিলেবাস, প্রশিক্ষণ এবং কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হয়। সে বিবেচনায়ই সম্ভবত এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে।

যদিও শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করছেন, হঠাৎ করে কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রস্তুতির সময় কমিয়ে আনা তাদের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করছে। অনেকে বলছেন, কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকায় প্রস্তুতি নিতে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, শিক্ষার্থীরা যাতে প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের সন্দেহে বিভ্রান্ত না হন, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে কোনো কোনো কোচিং সেন্টারের নাম জড়িয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই কর্তৃপক্ষ আরও কঠোর অবস্থান নেয়। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এবারের সিদ্ধান্তকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ একদিকে যেমন পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে। পরীক্ষার আগে কোচিং-নির্ভরতা কমানো এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সহানুভূতিশীল ও তথ্যসমৃদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও তারা মনে করেন।

দেশজুড়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে যে উদ্বেগ, প্রত্যাশা এবং প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে একটি বিশেষ আবহ তৈরি হয়। সেই আবহেই এবার নতুন বাস্তবতা যোগ হয়েছে আসনসংখ্যার পরিবর্তন এবং প্রস্তুতির সময় কমে যাওয়ার বিষয়টি। তবুও শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই মনোযোগ ধরে রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

সবশেষে, পরীক্ষার আগের এই ১২ দিন কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি এটি ভর্তি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং অনিয়মমুক্ত রাখতে সরকারের প্রচেষ্টাকেও দৃঢ় করে। পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও প্রশ্নবিহীন করতে এই উদ্যোগই হয়তো ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত