রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও স্ত্রী হত্যা, অজ্ঞাতনামা আসামি মামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

রংপুরের তারাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় এবং তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। নিহত দম্পতির বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় রোববার রাতে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি গ্রামের মানুষের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

নিহত দম্পতির বাড়ি কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামে। তাদের বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় র‍্যাবে এবং ছোট ছেলে রাজেশ খন্না চন্দ্র রায় পুলিশে কর্মরত। বাব-মায়ের সঙ্গেই গ্রামের বাড়িতে শেষ বয়স যাপন করছিলেন। শনিবার রাত ৯টা ২২ মিনিটে ছোট ছেলে রাজেশের সঙ্গে কথা হওয়ার পরপরই বাড়িতে অনিয়ম লক্ষ্য করা হয়। রবিবার সকালে দিনমজুর দীপক চন্দ্র রায় বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে রক্তাক্ত দেহ দেখে প্রতিবেশীদের ডেকে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ জানায়, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে যোগেশ চন্দ্রের মাথার পেছনে ও সুবর্ণা রায়ের কপালে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

নিহত দম্পতির ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় বলেন, “আমার মা-বাবা শেষ বয়সে ছিলেন, তবু এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। এক বছর আগে বাবা গ্রামের শ্মশানকে ৮ শতক জমি দান করেছিলেন। সম্ভবত কেউ এটি মেনে নিতে পারেনি। এটি হত্যার কারণ হতে পারে।”

রবিবার সকাল থেকে গ্রামের রহিমাপুরে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়ির পাশে কাঠখড়ি জোগাড় করা হচ্ছে সৎকারের জন্য, এবং ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা একত্র হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলী হোসেন বলেন, “নতুন ইউএনওকে রোববার ফুল দিয়ে বরণ করার জন্য আমরা উপজেলা পরিদর্শনে আসছি। সেখানে যোগেশেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল, কিন্তু সেই দিনই তাঁর লাশ উদ্ধার হলো। বিজয়ের মাসে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে হত্যা করা লজ্জাজনক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে কঠোর আন্দোলন হবে।”

ইউএনও মোনাব্বার হোসেন বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্রের বাড়িতে ঘুরে এসেছি। লাশ বাড়িতে পৌঁছালে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা জানায়, নিহত দম্পতি ছিলেন গ্রামের পরিচিত ও সম্মানিত মানুষ। তাদের নৃশংস হত্যার খবর গ্রামের মানুষের মধ্যে দারুণ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দায়িত্বে থাকা মানুষরা ক্ষুব্ধ ও শোকাহত।

পুলিশ ও প্রশাসন এখনও হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারছে না। শোভেন চন্দ্র রায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যেতে পারে, তারা হয়তো বাবার জমি দান মেনে নিতে পারেনি। পুলিশের তদন্তের সঙ্গে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের মিলিয়ে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা জরুরি। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের স্বীকৃতি ও সম্মান রক্ষা করা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসে কালিময় অধ্যায়ের মতো হয়ে যাবে যদি অপরাধী দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় না আসে।

গ্রামের মানুষ জানিয়েছে, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করছে। তারা আশা করছে, দ্রুততম সময়ে পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে। হত্যাকাণ্ডের প্রভাব শুধু নিহত পরিবারে নয়, পুরো গ্রামে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ছড়িয়ে দিয়েছে।

উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন এবং মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, হত্যাকারীদের দ্রুত সনাক্ত করা এবং আইনের আওতায় আনা হবে। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে জনগণ কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে সমাজে অশান্তি ও অন্যায়কে উৎসাহিত করা হতে পারে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত