খালেদা জিয়ার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মঙ্গলবার ঢাকায় আসছে না

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জর্জিয়া থেকে ঢাকায় আসার কথা থাকা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি এখন আর আসছে না। জার্মান এভিয়েশন কোম্পানি এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ স্লট বাতিল করার জন্য আবেদন করেছে, যা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ জানিয়েছিলেন, কাতার সরকারের সহায়তায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি জর্জিয়ার তিবলিস থেকে ঢাকায় আসবে। প্রাথমিক শিডিউলে মঙ্গলবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বিমানটি পৌঁছানোর কথা ছিল এবং একইদিন রাত ৯টায় ঢাকা ত্যাগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

কাতার সরকার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি জার্মান এভিয়েশন কোম্পানি এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ থেকে ভাড়া করেছিল। তবে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। চিকিৎসা বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এভারকেয়ার হাসপাতালের ১২ সদস্যের বোর্ডের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও চীনের বিশেষজ্ঞরা।

৮০ বছর বয়সি বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে তাকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। সরকারের নির্দেশে তাকে ‘ভিভিআইপি’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এসএসএফের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে যে চাহিদা তৈরি হয়েছিল, তার পেছনে রয়েছে তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার প্রয়োজন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের শিডিউল বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোগীর স্থিতিশীলতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিদেশে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বাতিল হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে স্বাস্থ্যগত কারণে সাবধানতার প্রয়োজনীয়তা এবং প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করছেন। চিকিৎসা বোর্ডও উল্লেখ করেছে যে, রোগীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা বিবেচনায় বিদেশে নেওয়ার আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার পূর্ণ মূল্যায়ন করা জরুরি। এছাড়া মেডিকেল বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট বিমান ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও সুনির্দিষ্টভাবে করতে হবে।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের শিডিউল বাতিল হওয়ায় হাসপাতাল, পরিবার এবং দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়কেও গুরুত্ব দিতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রোগীর নিরাপত্তা ও সেবার নিশ্চয়তা প্রথম প্রাধান্য পাবে।

খালেদা জিয়ার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বাতিল হওয়া বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক মহলে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। একই সঙ্গে এটি নাগরিকদের মধ্যে রোগীর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার গুরুত্বকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট যে, বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে শিডিউল বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের স্থিতি রোগীর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মেডিকেল বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিটি সিদ্ধান্তকে যত্নসহকারে নেওয়া, যাতে কোনো ঝুঁকি না থাকে।

খালেদা জিয়ার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা আসছে না—এই খবরটি এখন স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিকল্পনার গুরুত্বকে সামনে এনেছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত