ইন্ডিগো ফ্লাইট বিপর্যয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে বাবার আকুতি ভাইরাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৫ বার

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ভারতের বিমান পরিবহন খাতে ইন্ডিগোর ফ্লাইট বিপর্যয় কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি করেছে। দেশের বড় বড় বিমানবন্দরে একের পর এক ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হওয়ার ঘটনা সাধারণ যাত্রীদের জন্য এক চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসলেও, এই সমস্যার মধ্য দিয়ে মানুষদের কষ্ট ও হতাশা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নজর কাড়ছে।

গত ৫ ডিসেম্বর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে দিল্লি বিমানবন্দরের ইন্ডিগোর হেল্প ডেস্কের সামনে শতাধিক মানুষ ভিড় জমিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন বাবা নিজের মেয়ের জন্য স্যানিটারি প্যাড চাইতে গিয়ে হেল্প ডেস্কে বসা একজন কর্মীকে জোরে জোরে অনুরোধ করছেন। তাঁর শরীরী ভাষা এবং হতাশা বোঝাচ্ছে যে, তিনি অগণিত বিলম্বিত ফ্লাইট এবং তীব্র বিশৃঙ্খলার কারণে চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।

ইন্ডিগো ভারতের বৃহত্তম উড়োজাহাজ সংস্থা। দিনে দেশে-বিদেশে প্রায় ২,৩০০টির মতো ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। তবে নভেম্বরে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জন্য নতুন ছুটি ও বিশ্রামের নিয়ম চালু করার পর এই বিপর্যয় শুরু হয়। নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো ক্রুদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা, ক্লান্তি ও অবসাদ কমানো এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো। কিন্তু এই নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগের ফলে ফ্লাইট পরিচালনায় চরম সমস্যা তৈরি হয়, বিশেষ করে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ দেশের বড় বিমানবন্দরে।

ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের কারণে হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে। খাবার, পানি এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতি জনমানসে আতঙ্ক ও হতাশা সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সেই প্রেক্ষাপটের মধ্যে এক বাবা মেয়ের জন্য স্যানিটারি প্যাড চাইছেন। ভিডিওটি দ্রুত এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। ভিনা জেইন নামের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিও ৫ লাখ ৬১ হাজার মানুষের নজরে এসেছে।

নিউজ১৮-এর বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ভিডিওটি দিল্লি বিমানবন্দরে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় যাত্রীরা ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্যের অভাবে এবং বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় জরুরি সামগ্রী না থাকার কারণে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ব্যক্তির জোরে জোরে হেল্প ডেস্কে চাপ দেওয়া এবং মেয়ের প্রয়োজনের জন্য আকুতি দেখানো, বিমানবন্দর পরিস্থিতির মানবিক সংকটের একটি পরিষ্কার চিত্র।

এই ঘটনা শুধু যাত্রীদের অসুবিধাই নয়, বরং বিমানবন্দরের প্রাত্যহিক কার্যক্রমে মানুষের প্রয়োজনীয়তার অবহেলার কারণে সৃষ্টি হওয়া মানবিক সংকটকেও ফুটিয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সমাধান, সহায়তা এবং সামগ্রীর বন্দোবস্ত করতে হবে। এছাড়া যাত্রীদের জন্য জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা বিমানবন্দরের দায়িত্ব।

ইন্ডিগোর ফ্লাইট বিপর্যয় ভারতের বিমানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এটি শুধুমাত্র ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের কারণে যাত্রীদের কষ্ট নয়, বরং সামগ্রিক বিমান পরিষেবার ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা এবং জরুরি পরিষেবার তীব্র অভাবকেও সামনে এনেছে। এতে দেখা গেছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয়তা এবং মানসিক চাপকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দিলে বড় ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভারতীয় বিমান সংস্থা ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। হেল্প ডেস্কে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন, জরুরি পণ্যসামগ্রী সরবরাহ এবং ফ্লাইট পরিচালনায় প্রাধান্য দেয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তবে এই ভিডিও ও অন্যান্য অভিজ্ঞতা যাত্রীদের মধ্যে বিমানের প্রতি আস্থা ও সন্তুষ্টিতে প্রভাব ফেলেছে।

ইন্ডিগো ফ্লাইট বিপর্যয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে বাবার আকুতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়া মানবিক দৃশ্যটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যাত্রীদের প্রয়োজনীয়তা, মানবিক সহায়তা এবং বিমান পরিচালনার মানকে সর্বদা প্রাধান্য দিতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংকট এড়াতে বিমান সংস্থাগুলোর কর্মসংস্কৃতি ও পরিকল্পনামূলক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা আবশ্যক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত