প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুমিল্লা: পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় ভারত থেকে স্থলপথে পণ্য আমদানি বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান এবং বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে না যায়।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কুমিল্লা সার্কিট হাউসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান খাদ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। পণ্যের দাম আর যেন কোনো অবস্থাতেই না কমে, সেজন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। স্থলপথে ভারত থেকে যেটা আমদানি হতো সেটা বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে।”
খাদ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, “ধান-চাল সংগ্রহের মাধ্যমে সরকার কাজ করছে বাজার থেকে অতিরিক্ত পণ্য তুলে নেওয়ার জন্য। এতে বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং দাম স্থিতিশীল থাকবে। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কার্যক্রম দুই মাস পর পুনরায় শুরু করা হবে।”
সভায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এবং জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি ও ধান-চাল সংগ্রহের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। খাদ্য উপদেষ্টা সকলকে নির্দেশ দেন, বাজার পর্যবেক্ষণ এবং ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের শিথিলতা যেন না থাকে।
এছাড়া তিনি বলেন, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার শুধুমাত্র আমদানি বন্ধ রাখার ওপর নির্ভর করছে না। ধান-চাল সংগ্রহের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। “আমরা চাই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান-চাল বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পান এবং বাজারের ভারসাম্য বজায় থাকে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দমন-কৌশল গ্রহণ করা হবে না, বরং এটি বাজারের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য করা হচ্ছে,” বলেন আলী ইমাম মজুমদার।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে তা ত্বরান্বিত করা হবে। এছাড়া তারা নিশ্চিত করেন যে, ধান সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য প্রতিটি ধাপ মনিটরিং করা হচ্ছে।
খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ধান সংগ্রহ নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বাজারে অপ্রয়োজনীয় সাপ্লাই বা অতিরিক্ত আমদানি বন্ধ করে আমরা কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং স্থিতিশীল দাম নিশ্চিত করছি। সরকারের উদ্যোগে এই ব্যবস্থা চলমান থাকবে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সভায় বিশেষভাবে স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি, ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে অগ্রগতি, এবং কৃষক ও মিলারদের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভার সমাপ্তিতে খাদ্য উপদেষ্টা সকলকে নির্দেশ দেন যেন তারা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেন এবং ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিশ্চিত করেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান, এবং স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ যৌথভাবে কার্যক্রম মনিটর করছে। পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।