প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মাইজদী-চৌমুহনী আঞ্চলিক মহাসড়কের একলাশপুর এলাকায় একটি নিয়ন্ত্রণ হারানো অটোরিকশা বাসের পেছনে ধাক্কা দেয়ার ঘটনায় ৬০ বছর বয়সি ধন রঞ্জন দে নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অটোরিকশা চালকসহ আরও চারজন। দুর্ঘটনাটি সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটে। নিহত ধন রঞ্জন উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপুর গ্রামের সত্য রঞ্জন দের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সোয়া ১১টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জেলা শহর মাইজদীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। অটোরিকশাটি মাইজদী-চৌমুহনী আঞ্চলিক মহাসড়কের একলাশপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ সামনে থাকা একটি অটোরিকশা ব্রেক করে দাঁড়িয়ে যায়। এতে পিছনে থাকা অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত বাসের পেছনে ধাক্কা দেয়।
ঘটনার প্রভাবে অটোরিকশায় থাকা পাঁচজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা ধন রঞ্জনকে মৃত ঘোষণা করেন, আর বাকি চারজনের অবস্থাও গুরুতর। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কে যানবাহনের চাপও বেশি ছিল। নিয়ন্ত্রণ হারানো অটোরিকশা হঠাৎ বাসের পিছনে ধাক্কা দেওয়ায় ঘটনাস্থলেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আহতরা স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার না করলে আরও গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যানবাহন চালনার নিয়ম ও সচেতনতা অপরিহার্য। বিশেষ করে অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের প্রশিক্ষণ না থাকলে এমন দুর্ঘটনা অনিবার্য। সড়ক নিরাপত্তা ও দ্রুত চিকিৎসা সেবার গুরুত্বও এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো।
নোয়াখালী অটোরিকশা দুর্ঘটনায় নিহত ধন রঞ্জনের পরিবারের সদস্যরা শোকাহত। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা ও আহত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলমান রয়েছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের তৎপরতা ও সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এ দুর্ঘটনা পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে যে সড়কে নিরাপদ যাতায়াত এবং যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।