প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে। দীর্ঘ প্রস্তুতি, রাজনৈতিক আলোচনা এবং নির্বাচনী আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও চার নির্বাচন কমিশনার। সাধারণত জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ একটি রেওয়াজ, যা নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবিধানিক সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিকে আরও স্পষ্ট করে। আজকের এ সাক্ষাৎকে তাই নির্বাচন ঘিরে চলমান প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার ভাষণ ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে দেবেন। ভাষণটি রেকর্ড করা হবে এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর আজ সন্ধ্যায় অথবা সর্বোচ্চ আগামীকাল সম্প্রচার করা হতে পারে। তফসিলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও গণভোটের সময়সূচি, মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, আপিল-আপত্তি, প্রতীক বরাদ্দ এবং প্রচারণার তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কমিশন নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্তকরণ প্রায় শেষ পর্যায়ে, নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রবাসী ভোটদান, পোস্টাল ব্যালট সুবিধা সম্প্রসারণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি। এসব প্রক্রিয়াকে সুসংহত করতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকে কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন অংশীজনদের প্রতি সহযোগিতা কামনা করবেন সিইসি। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে এবং ভোটারদের মনে আস্থা সৃষ্টি হবে।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচন পরিচালনার সার্বিক নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে আরপিও সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি, যা নির্বাচনী কার্যক্রমে নতুন কিছু বিধান এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন যুক্ত করেছে। এসব সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তফসিল ঘোষণাকে ঘিরে উত্তেজনা এখন স্পষ্ট। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে, জোটবদ্ধ হওয়ার আলোচনা চলছে, একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা পূর্বাভাসও দেখা যাচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী মাঠ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলে ধারনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, আজকের বঙ্গভবন সাক্ষাৎ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত পথচলার সূচনা। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন যে কোনো মুহূর্তে তফসিল ঘোষণা করবে—এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন কেমনভাবে সামনে এগোয়, তা নির্ভর করছে আজকের এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর ওপর।