দুমকিতে ভ্যান–অটো সংঘর্ষে যুবক নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭ বার
দুমকিতে ট্রলি ভ্যান ও অটো সংঘর্ষে যুবক নিহত

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় বুধবার রাতে ঘটে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, যেখানে ট্রলি ভ্যান ও যাত্রীবাহী অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে সিয়াম (২৪) নামের এক যুবক নিহত হন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুরাদিয়ার আমির হোসেনের রাস্তার মাথা এলাকায়, গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম বাউফল উপজেলার বাবনীকাঠী এলাকার দেওয়ান বাড়ির বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার সময় সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, অটোটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পুকুরে উল্টে পড়ে। আশপাশের মানুষরা দ্রুত সেখানে ছুটে গিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তারা আহত যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যে দুর্ঘটনার স্থলে উপস্থিত এক নারী একজনের প্যান্ট দেখে চিৎকার দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশপাশের মানুষরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং আহত সিয়ামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় অন্তত কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “বালুবোঝাই একটি ট্রলি ভ্যানের সঙ্গে যাত্রীবাহী অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ধাক্কায় অটোটি রাস্তা থেকে ছিটকে পুকুরে পড়ে যায়। মৃত ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলেন, এই সড়কটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। দিনের বিভিন্ন সময় অটো, ট্রলি ও ছোট যানবাহনগুলোর চাপে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে রাতে সড়কের নির্দিষ্ট অংশে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে, যাতে এ ধরনের দূর্ঘটনা এড়ানো যায়।

সিয়ামের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। তিনি পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম যুবক ছিলেন। শোকস্তব্ধ পরিবার জানায়, সিয়ামের অকালমৃত্যু তাদের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

স্থানীয়রা আরও জানান, দুর্ঘটনার পর যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ অংশে জরুরি সতর্কতা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার জন্য সামাজিক ও স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠনগুলিও তৎপর হয়ে উঠেছে।

সড়ক দুর্ঘটনার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার অভাব ও যানবাহনের অযত্নে মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর মতো অঞ্চলগুলোতে যেখানে রাতের অন্ধকারে সড়ক নিরাপত্তা কম, সেখানে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত