তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫০ বার
৯ ডিগ্রিতে নামলো তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পঞ্চগড়ে শীতের প্রভাবে তেঁতুলিয়ায় টানা পাঁচ দিনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, যা এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সূচনা করেছে।

আগের দিন বুধবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৭৭ শতাংশ। ওই দিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবারও (৯ ডিসেম্বর) সকালেই একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৮৪ শতাংশ। সেই দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, টানা পাঁচ দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করার পর আজ তা আরও কমেছে। তিনি বলেন, “এলাকাজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে এবং আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। বিশেষ করে ভোরবেলায় শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হবে।”

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানিয়েছেন, শীতের এই দুর্যোগে জেলা প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে শীতার্ত মানুষের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে। এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থে ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল ক্রয় করে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষদের জন্য আরও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশুসহ অসহায় মানুষদের জন্য বাড়িতে পর্যাপ্ত উষ্ণতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে কম্বলের ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিটি ইউনিয়নে শীতের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের তালিকা করা হয়েছে এবং তারা সরাসরি কম্বলের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।”

এদিকে, শীতের সঙ্গে আর্দ্রতা বৃদ্ধি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে। গ্রামের মানুষ জানিয়েছেন, সকালে তাপমাত্রা কম থাকায় দেহে শীতের প্রভাব তীব্র অনুভূত হচ্ছে। অনেকে বাড়িতে হালকা আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, শীতের কারণে ফসল এবং জলজ উদ্ভিদের ওপর প্রভাব পড়ছে। কম তাপমাত্রার কারণে ভোরবেলায় ধানক্ষেত ও সবজি চাষে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হচ্ছে।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য শীতজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, শীতের কারণে শ্বাসনালী ও ফুসফুস সংক্রান্ত রোগের প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। এই জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত উষ্ণ কাপড় এবং কম্বল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ সামাল দিতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ একযোগে উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে আবহাওয়াবিদরা জানান, সামনের কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে এবং ভোরবেলা তেঁতুলিয়ায় শীতের প্রকোপ তীব্র হবে। এর ফলে জেলার শীতার্ত মানুষদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।

তেঁতুলিয়ায় রেকর্ডকৃত এই ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা শীতের মৌসুমে স্থানীয় মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সংগঠনগুলো একযোগে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শীতজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিয়েছে। শীতের কারণে জনগণ যাতে অসুবিধা না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত