প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আর আওয়ামী আমলের নির্বাচন এক নয়; এবারের ভোট হবে নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক। এই নির্বাচনে জয়ী হতে হলে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির পঞ্চম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ পাবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এই নির্বাচনের লড়াই সবচেয়ে কঠিন লড়াই। পেছনে টেনে নেওয়ার শক্তির বিরুদ্ধে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তিকে জয়ী করার চ্যালেঞ্জই আমাদের।
তিনি আরও বলেন, একটি নতুন রাজনৈতিক জোট বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের যত বড় সংস্কার, উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে—সবই বিএনপির হাত ধরে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশের যা কিছু ভালো অর্জন, তার সবই বিএনপির অবদান।
মহাসচিব আরও বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল দেশের নেতৃত্ব দিতে পারবে না। তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, নির্বাচনের সময় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ফখরুল বলেন, বিএনপি সব সময়ই জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করেছে। তিনি বলেন, যারা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের চক্রান্তের মোকাবিলা করতে হবে এবং জনগণের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়া শুধুমাত্র পদ বা ক্ষমতা অর্জন নয়, এটি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের প্রতীক। এজন্য প্রতিটি নেতা ও কর্মীকে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা বুঝতে হবে এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ধানের মতো বিরোধী শক্তিকে দমন করতে হবে। জনগণ যাতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করা বিএনপির অগ্রাধিকার।
ফখরুলের ভাষ্যমতে, আসন্ন নির্বাচন দেশের জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলবে, যেখানে প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠিত হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করাই হবে নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি।
এই কর্মসূচিতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ভবিষ্যতের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা ফখরুলের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।