প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ একাত্তরের চেতনা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাওয়া ব্যক্তিদের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে বলেছেন, এই ইতিহাসকে কোন দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করা উচিত হয়নি। শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শুধু আবেগে ভর করে নয়, বরং সুষ্ঠু ও সুপরিকল্পিতভাবে এগোতে চায়। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান কেবলমাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফল নয়, বরং সাড়ে ১৫ বছরের সংগ্রামের ফলস্বরূপ এসেছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর অনেকেই হতাশ ও দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত সবাই তা স্বাগত জানাতে বাধ্য হয়েছে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির ৩১ দফাকে জাতির ‘মুক্তির সনদের নির্যাস’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সহযোগীদের সঙ্গে প্রণীত এই ৩১ দফা এখন দেশের ইতিহাসে একটি মহাকাব্যের রূপ নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেকেই অতীতের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ভুলে যাচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের ভোটের আশায় একটি দল তাদের অতীত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলছে না। তিনি বলেন, “রক্তস্নাত ইতিহাস, দুর্নীতি এবং অতীতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনাগুলো যেন জাতি ভুলে না যায়।”
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সরকারের শ্বেতপত্রে উল্লিখিত ২৯ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা পাচারের তথ্য প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগ দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে এবং দেশের ‘কবর রচনা’ করেছে। তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলেন, একাত্তরের চেতনা কোনো দলীয় স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা কখনো সফল হতে পারে না, কারণ জনগণ ইতিহাস জানে এবং এর যথাযথ মূল্যায়ন করে।
তিনি সমালোচনামূলকভাবে উল্লেখ করেন, দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা ও জনগণের সচেতনতার কারণে একাত্তরের চেতনার অপব্যবহারকারীরা সর্বদা ব্যর্থ হয়েছে। এই ইতিহাস শুধু একটি আন্দোলনের নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফলাফল। তাই একাত্তরের চেতনা সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একটি নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সভা ও কর্মসূচির আলোকে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দল একাত্তরের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল নীতি অনুযায়ী দেশ গঠন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। দেশের মানুষের জন্য ন্যায্যতা, সমতার ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিএনপি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য শুধুমাত্র ক্ষমতায় পৌঁছানো নয়, বরং দেশের জন্য একটি স্থায়ী, স্বাধীন ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠন করা। একাত্তরের চেতনা ও ইতিহাসকে ন্যায্য ও দায়িত্বশীলভাবে ধরে রেখে, রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য ব্যবহার না করে দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসাই দলের মূল উদ্দেশ্য।
সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যের শেষভাগে বলেন, নির্বাচনকে আবেগের ভিত্তিতে নয়, বরং পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলভাবে গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, “একাত্তরের চেতনা আমাদের জন্য একটি দিশানির্দেশ। যারা এটি দলে বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করতে চেয়েছে, তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হলো এই চেতনাকে যথাযথভাবে সমুন্নত রাখা এবং দেশের মানুষকে মুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ উপহার দেওয়া।”
একই সঙ্গে তিনি বিএনপির জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। একাত্তরের চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যক্রম চালানো হবে।