শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা, কুয়াশায় জনজীবন স্থবির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮২ বার
শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা, কুয়াশায় জনজীবন স্থবির

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে শীতের প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ঘন কুয়াশা এবং হিমেল হাওয়ায় জনজীবন ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকেই পুরো এলাকায় কুয়াশার চাদর নেমে আসে। সকাল ৮টার মধ্যে শহরের সড়কপথ, আশপাশের মাঠ–ঘাট সবই সাদা কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলতে হয়।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন খেটে–খাওয়া, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষজন। যারা জীবিকার তাগিদে ভোরে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য হন, তাদের কষ্ট অনেক বেশি। ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে অনেকে বাড়িঘরের আঙ্গিনা বা রাস্তার মোড়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে নিজেকে গরম রাখার চেষ্টা করছেন।

সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা চারপাশ ঢেকে রেখেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া খুব কম মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন। কেউ গরম কাপড় জড়িয়ে বাইরে কাজ করতে গেলেও অনেকে তীব্র শীতের কারণে ঘরেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সূর্য ওঠার পরও রোদ্দুরের তাপ মিলছে না, ফলে শীতের প্রভাব আরও বেড়েছে।

রিকশাচালক মনা মিয়া জানান, তিনি তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যেও রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন। তবে সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনো যাত্রী পাননি। তিনি বলেন, “এভাবে শীতের তীব্রতা থাকলে সামনের দিনগুলোতে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হবে।”

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, শ্রীমঙ্গলে প্রতিদিনই শীতের তীব্রতা বাড়ছে। রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং কুয়াশা ঘন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েকদিনে ১৩ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা থাকলেও আজ তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে, যা চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন। তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরের শুরুতেই এমন শীত দেখা দিলে সামনের দিনগুলোতে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা থাকে।

শীতের সঙ্গে কুয়াশার উপস্থিতি পরিবহন ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। জেলা সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শ্রীমঙ্গলের পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়ছেন। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সকাল থেকে ব্যস্ততা কমে যাওয়ায় কার্যক্রম সীমিত রাখছে।

শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শীতের এই তীব্রতা ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষকে বাইরে বের হওয়ার সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তারা বিশেষভাবে বলেন, যারা কর্মজীবী বা শিক্ষার্থী, তাদের ঘন কুয়াশায় হালকা দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক হওয়া জরুরি।

শীতের এই প্রভাবে শ্রীমঙ্গলের প্রাণিকুলও কম সক্রিয় হয়ে পড়েছে। পশুপাখি কম দেখা যাচ্ছে। চাষিদের ক্ষেত ও কৃষি কার্যক্রমও শীতের কারণে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। বিশেষ করে চা বাগানগুলোতে কর্মীরা শীতের তীব্রতায় সক্রিয়তা হারাচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে মানুষ সতর্ক। শিশু, বৃদ্ধ এবং কমজোরি মানুষের জন্য এই শীত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, সর্দি-কাশি ও জ্বরের মতো মৌসুমি রোগের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। তাই ঘন কুয়াশা ও শীতে বাইরে বের হওয়া উচিত সতর্কতার সঙ্গে।

শ্রীমঙ্গলে শীত ও কুয়াশার এই পরিস্থিতি আগামী দিনে কেমন রূপ নেবে, তা নির্ভর করছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর। তবে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের জন্য এই ঠাণ্ডা এখনই চলমান জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত