প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শুক্রবার অনুষ্ঠিত “বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা” কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল‑বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন, তার দল ধর্মের নামে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় না। তিনি বলেন, রাজনীতিকে কখনোই ধর্মের সঙ্গে জড়িয়ে সমাজে ভিন্নমত ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিভাজন সৃষ্টি করা উচিৎ নয় এবং বিএনপি বিশ্বের ধর্মীয় ও সামাজিক সহনশীলতার প্রতি গুরুত্ব দেন।
এদিন তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার লোভে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিএনপির বিরুদ্ধে বক্তব্য তুলে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি দল জোর করে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ঐক্যের ক্ষতি করতে পারে। তিনি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে উন্নয়ন ও ন্যায়ের মধ্যেই দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ তৈরি করা উচিত।
সালাহউদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনার চরিত্রকে রাজনৈতিক উসকানিতে ব্যবহার করা ঠিক হয়নি এবং এর চেষ্টায় যারা ছিলেন, তারা সর্বশেষ ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১-এর পাশাপাশি ২০০৪ সালের অভ্যুত্থান এবং গত ১৫ বছরের সংগ্রাম—এসবই সমষ্টিগতভাবে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক দীর্ঘ পথচলা ছিল, যা বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন গণ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, শুধুমাত্র আবেগ ও উৎসাহে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়; বরং সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও বাস্তবিক লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা দরকার। তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে আবেগের চেয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও উদ্যোগই প্রাধান্য পাবে।”
সালাহউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সমাজের সকল স্তরকে যুক্ত করে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে গঠিত হওয়া উচিত, যাতে দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিভিন্নতা সম্মানিত থাকে ও বিভেদের খেলা বন্ধ হয়। তিনি বলেন, ধর্মীয় সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি উন্নত ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নই বিএনপি’র রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি।
বিএনপি গত কয়েক মাস ধরে বারবার এই বার্তাটি উপস্থাপন করছে যে, ধর্ম‑ভিত্তিক রাজনীতি ও বিভাজন তীব্রভাবে বিরোধিতা করা হবে। দলের পক্ষ থেকে যেমন সাবেক নির্বাচন সম্প্রসারণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার দাবি করা হয়েছে, তেমনই ধর্মকে ভোটের ইন্ধনে ব্যবহার করা হলে তা গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে বিপন্ন করবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছিলেন, জনসমাজ ধর্মীয়ভাবে বিশ্বাসী হলেও, দেশে কোনো গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারবে না এবং বিএনপি এই ধরনের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিএনপি’র এই বক্তব্যটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ধরা হচ্ছে, যেখানে দলটি ধর্মীয় ও জাতিগত সহাবস্থানকে জোরদার করার মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় করতে চাইছে, বিশেষত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। এমন প্রচেষ্টা সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভাজন কমিয়ে সাম্প্রদায়িক ঐক্য বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
সার্বিকভাবে, সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষণে প্রতিফলিত হয়েছে বিএনপি’র রাজনৈতিক অবস্থান যে, ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক বিভাজনের হাতিয়ার বানিয়ে কোনো গোষ্ঠী জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না। দলটি উদ্ভূত রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও রাজনীতির জটিলতার মোকাবেলায় একত্রিত দক্ষ নেতৃত্ব ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করছে, যাতে দেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সহাবস্থান অক্ষুণ্ন থাকে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় হয়।