প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রিকেটই সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরছেন, অর্জন করছেন সম্মান ও জনপ্রিয়তা। তাদের সাফল্যে আজ কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে ক্রিকেট। তবে জাতীয় দলের তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব মনে করেন, তিনি বা তার মতো কোনো ক্রীড়াবিদের সাফল্যই একদিনে তৈরি হয়নি; এই দেশের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা এবং সম্মানের ভিত্তি তৈরি করে গেছেন আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তাই তিনি তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তানজিম হাসান সাকিব লেখেন এক আবেগঘন পোস্ট। সেখানে তিনি বলেন, “আমি মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে গর্ববোধ করি। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গর্ববোধ করি। যাদের ছিলো না ট্রেনিং, যারা প্রশিক্ষিত ছিলেন না, কিভাবে যুদ্ধ করতে হবে জানতেন না, তারপরও দেশের টানে, মাটির টানে পাক হানাদার প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন।” তার মতে, দেশের টানে সাহসিকতার এই সিদ্ধান্তই বাঙালি জাতিকে নতুন পরিচয় দিয়েছে—একটি ভীত জাতি থেকে সাহসী জাতিতে রূপান্তরিত করেছে।
তানজিম আরও বলেন, “যাদের কারণে আমি আজ বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বের বুকে ক্রিকেটের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারছি, তাদের নিয়ে আমি গর্ব বোধ করি। বাংলাদেশের প্রকৃত হিরো, প্রকৃত সেলিব্রিটি আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা।” তরুণ এই পেসারের কথায় উঠে আসে গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাড়া ফেলে, বিশেষ করে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের আবেগকে আরও জাগিয়ে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ, গ্রাম-গঞ্জের কিশোর-যুবক, কৃষক-মজুর—যাদের অনেকের কোনো সামরিক প্রশিক্ষণ ছিল না, তারাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণের বিপরীতে দাঁড়িয়েছিলেন বাঙালির সাহস, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। সেই যুদ্ধের ফলেই জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ, যা আজ বিভিন্ন ক্ষেত্র—ক্রীড়া, সংস্কৃতি, অর্থনীতি—সব জায়গায় নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছে।
তানজিম সাকিবের বক্তব্য শুধু আবেগ নয়; এটি নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় যে দেশের স্বাধীনতা কোনোদিনই সহজে আসেনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ, প্রতিটি জয়, প্রতিটি গৌরব—সবই সম্ভব হয়েছে সেইসব মানুষের কারণে যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি মনে করেন, আজকের তরুণদের দায়িত্ব ইতিহাসকে জানা, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করা এবং তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণে ধরে রাখা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই তরুণ পেসার সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নানা সামাজিক ও মানবিক বিষয়ে বক্তব্য রাখায় আলোচনায় এসেছেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর মাঠে তার পারফরম্যান্স যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার স্পষ্ট অবস্থানও প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, তার এই বক্তব্য ক্রীড়াঙ্গনের তরুণদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই তানজিমের এমন মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই মাসে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা লক্ষ লক্ষ মানুষকে স্মরণ করে, শ্রদ্ধা জানায় বীর শহীদদের। তাই cricket-এর তরুণ তারকার এমন সম্মান ও কৃতজ্ঞতার বার্তা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, সাধারণ মানুষের মনেও জায়গা করে নিয়েছে। বহু মুক্তিযোদ্ধা-পরিবারের সদস্যরা তানজিমের পোস্টের নিচে মন্তব্য করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তার বক্তব্যকে দেশের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসার প্রকাশ বলে উল্লেখ করেছেন।
আজকের নতুন প্রজন্ম যখন আন্তর্জাতিক খেলাধুলায়, প্রযুক্তিতে, সংস্কৃতিতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে, তখন ইতিহাসকে সম্মান জানানো ও পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করাও অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তানজিমের বার্তাটি সেই দায়িত্বকেই নতুন করে তুলে ধরে। তার মতে, দেশের প্রতি ভালোবাসা শুধু কথায় নয়, কাজেও প্রকাশ করতে হয়। আর সেই ভালোবাসা গভীর হয় ইতিহাস জানার মাধ্যমেই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পোস্ট ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাতে অনেকেই মনে করছেন—এমন দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের প্রকাশ তরুণ প্রজন্মকে আরও দেশপ্রেমিক করে তুলবে। ক্রীড়াবিদদের জনপ্রিয়তা মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, আর তানজিম সাকিব সেই প্রভাবকে অর্থবহ বার্তা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেছেন। ক্রিকেট মাঠে যেমন তিনি প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করেন, তেমনি দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করতেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন নতুন প্রজন্মের মানসিকতাকে।
তানজিমের মতে, দেশের পতাকা শুধু মাঠে উড়ানো নয়; এর পেছনের ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে জানা এবং সম্মান করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, “যে জাতির তরুণরা নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে, সেই জাতির প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার গর্ব।”
তার এই বক্তব্য সত্যিই প্রমাণ করে—মাঠে তিনি শুধু ক্রিকেটার নন; একজন দায়িত্বশীল নাগরিকও।