ভোটের ৮ ভাগ না পেলে বাজেয়াপ্ত হবে প্রার্থীর জামানত

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭ বার
ভোটের ৮ ভাগ না পেলে বাজেয়াপ্ত হবে প্রার্থীর জামানত

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বরে ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি বিস্তারিত পরিপত্র জারি করেছে। পরিপত্রে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমাদান, জামানত নির্ধারণ, প্রস্তাবক ও সমর্থকদের যোগ্যতা, প্রার্থিতা বাছাই ও প্রত্যাহারের নিয়মসহ প্রার্থীদের জন্য যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে আট ভাগের এক ভাগ অর্জন করতে হবে; তা না হলে জামানত বাবদ জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হবে।

ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ পরিপত্র আজ শনিবার জারি করা হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে সরাসরি মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। ইতিমধ্যেই এসব ফরম ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে গেছে এবং সেগুলোর সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করতে আলাদা রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রার্থীরা যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। নির্ধারিত সময়ে, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত যে কোনো দিন মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা যাবে। শেষ দিন হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫। এই দিন বা তার আগের যে কোনো দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিলে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার তা গ্রহণ করবেন এবং প্রতিটি মনোনয়নপত্রে ক্রমিক নম্বর প্রদান করবেন।

মনোনয়নপত্র জমার সময় প্রতিটি ফরমের তথ্য যথাযথভাবে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। তৃতীয় অংশে দাখিলকারীর নাম, জমাদানের তারিখ ও সময় উল্লেখ করতে হবে। পঞ্চম অংশে প্রাপ্তি স্বীকার রসিদও সঙ্গে যুক্ত থাকবে, যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থী বা তার প্রস্তাবক/সমর্থককে প্রদান করতে হবে। এই নিয়ম প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, ট্র্যাকযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দায়িত্ব রিটার্নিং অফিসারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা হওয়া মনোনয়নপত্র ২৯ ডিসেম্বর বিকাল ৫টার পর নিরাপদে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনি এলাকার যে কোনো ভোটার সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রার্থীকে প্রস্তাব বা সমর্থন করতে পারবে, তবে কেউ একাধিক মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে পারবেন না।

পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রতিটি মনোনয়নপত্রে প্রার্থীকে তার সম্মতি, অযোগ্যতা না থাকার ঘোষণা দিতে হবে। এছাড়া কোনো প্রার্থী একাধিক নির্বাচনি এলাকায় মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন না। প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হবে, যা নগদ, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে দেওয়া যাবে। একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক মনোনয়নপত্র দিলে একটি জামানতই যথেষ্ট হবে; অন্য মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জামানতের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে। অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

জামানতের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক, যেকোনো ব্যাংক বা সরকারি ট্রেজারি বা সাব ট্রেজারিতে নির্দিষ্ট কোড নম্বরে জমা দিতে হবে। নগদে জমা দেওয়া জামানত রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার সরকারি খাতে প্রদান করবেন। এই কঠোর ব্যবস্থা প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে আইনগতভাবে নিশ্চিত করবে এবং অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিকভাবে অপ্রয়োজনীয় প্রভাব থেকে নির্বাচনকে মুক্ত রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়মাবলী প্রার্থীদের দায়িত্বশীলতা, যোগ্যতা এবং নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। জামানত বাজেয়াপ্তের শর্ত প্রার্থীদের যথাযথ প্রচেষ্টা করতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং ভোটারদের সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে এই শর্ত প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে একটি দায়িত্ববোধ তৈরি করবে যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এছাড়া, মনোনয়নপত্র জমা ও বাছাইয়ের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, আইনানুগ এবং প্রকাশ্য হলে নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। এটি রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও স্থিতিশীল করে তুলবে এবং কোনো প্রার্থী বা দল যাতে বেআইনী সুবিধা নিতে না পারে তা নিশ্চিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রকম কঠোর নিয়মের কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোর দেবেন, যা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করবে।

পরিপত্রে প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি এবং প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিস্তারিত নির্দেশনা নির্ধারিত হয়েছে, যাতে প্রতিটি ধাপ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। মনোনয়নপত্র জমা ও বাছাইয়ের এই নিয়মাবলী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকে আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি নির্বাচনে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

এই নতুন পরিপত্র প্রার্থীদের জন্য কার্যত একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। যারা ভোটের আট ভাগের এক ভাগও অর্জন করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে এবং তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারাবেন। এটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় প্রার্থীদের দায়িত্বশীলতা ও সৎ প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করা এই নির্দেশাবলীর মূল লক্ষ্য।

অতএব, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে নতুন ও কঠোর নিয়মাবলীর সঙ্গে। এটি কেবল প্রার্থীদের জন্য নয়, ভোটার এবং নির্বাচনী তদারকি সংস্থা, সকলের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে কাজ করবে, যা দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত