হাদি গুলিকাণ্ডে নির্বাচন ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১৬ বার

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলি বর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের নাশকতা ঘটানোর অপচেষ্টা থাকতে পারে। ঘটনার পরপরই হামলার পেছনের নেপথ্য কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে শনিবার দিনভর মাঠে কাজ করে পুলিশ ও গোয়েন্দা দলগুলো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং নির্বাচন ভণ্ডুলের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই হাদির ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মী, সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের পর তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা পুলিশের। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার ফয়সাল করিম মাসুদকে একজন গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে শনিবার রাত পর্যন্ত হামলায় সরাসরি জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা যাতে দেশ ছাড়তে না পারে, সে জন্য দেশের সব বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত দল ও নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য ঢাকাসহ সারাদেশে রেকি ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে। জামিনে মুক্ত থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুতের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই করছে—কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই হামলা চালিয়েছে। প্রয়োজনে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে। এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা না হলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলের পেছনে বসে গুলি করা ব্যক্তির চেহারার সঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদের মিল রয়েছে। অতীতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি অফিসে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ডাকাতির ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাদিকে পরিকল্পিতভাবেই টার্গেট করা হয়েছিল। শুক্রবার ছুটির দিনে সড়কে যানবাহন কম থাকার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলির ধরন ও ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে, হামলার আগে দীর্ঘদিন ধরে রেকি করা হয়েছিল। আশপাশে সহযোগী কেউ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনা থেকে লুট হওয়া বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এখনো এক হাজারের বেশি অস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার বাকি রয়েছে। এসব অস্ত্র অপরাধীদের হাতে থাকার আশঙ্কা আগামী নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ভোটের তারিখ ঘোষণার পরদিনই হাদির ওপর হামলার ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনার তালিকাও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। পুলিশের মতে, এসব ঘটনার পেছনে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র কাজ করছে, যার লক্ষ্য নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করা।

ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, হত্যাচেষ্টা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, প্রধান সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং জনগণের সহযোগিতাও চাওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা দায়ের না হলেও পুলিশ জানিয়েছে, খুব শিগগিরই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত