প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তৎপরতার অভাবে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারে ব্যর্থতা দায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দ্রুত পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনের এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এমন পরিস্থিতিতে আহত ও নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ন্যায্যতা দেওয়া না হলে এবং অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ করা না হলে সংগঠনটি যমুনা নদীর তীরে ঘেরাও কর্মসূচি কর্মসূচি আয়োজন করবে।
সংগঠনটি উল্লেখ করে যে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন যে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর, রক্তক্ষয়ী নির্বাচন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্র অধিকার পরিষদ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে।
১. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারীর অপসারণ।
২. জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক নিষিদ্ধ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়া যাবে না।
৩. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফয়সাল ও মাসুদকে ফেরত ও সীমান্ত হত্যার কারণে ভারতীয় দূতাবাস বন্ধের হুঁশিয়ারি।
৪. আওয়ামী লীগের কোনো লোক যেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে।
৫. গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ যাদের ওপর পুলিশ-সেনাবাহিনী হামলা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে। এ ছাড়া, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ যাদের ওপর পুলিশ ও সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে, তাদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নাজমুল হাসান বলেন, এই পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে দেশে শান্তি ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
শরিফ ওসমান হাদির উপর গুলিবিদ্ধ হামলার ঘটনায় এখনও অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ব্যর্থতা দায়ের বিষয়টি সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাদিকে লক্ষ্য করে করা এই সহিংসতায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ মিলেছে। ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, সামাজিকভাবে ও শিক্ষাজগতেও বিপজ্জনক প্রভাব ফেলছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নির্বাচনের সময় যদি সুষ্ঠু নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে সাধারণ ভোটার এবং রাজনৈতিক কর্মীদের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে। এছাড়া, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা এই হামলাকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদত্যাগসহ তাদের ৫ দফা দাবি কার্যকর করতে হবে। তিনি জানান, এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র অধিকার পরিষদ তাদের উদ্যোগের মাধ্যমে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের শান্তি ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সকলকে সংযম এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে বলে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ঘোষণা করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি। তিনি দেশের সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেন যে, সংগঠনটি তাদের স্বার্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সবসময় তৎপর থাকবে।
এতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচনী উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি সমাজে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। তাই এই ধরনের দাবির গুরুত্ব অপরিসীম, যা দেশের নাগরিক, ছাত্র-ছাত্রী ও ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বার্থে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
ছাত্র অধিকার পরিষদের এই আন্দোলন এবং দাবিগুলো আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে। দেশের মানুষ এবং রাজনৈতিক সম্প্রদায় আশা করছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদত্যাগসহ সংগঠনের পাঁচ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।