বিজয় দিবসের আয়োজনে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রধান উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
বিজয় দিবসের আয়োজনে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দাঁড়িয়ে বিজয়ের এই দিনে রাজধানীর হৃদয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও জনসম্পৃক্ততার এক তাৎপর্যপূর্ণ মিলনমেলায়। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের প্রধান পর্ব, যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব ও সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলাবদ্ধ উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে বিশেষ মাত্রা দেয়।

জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বিজয় দিবসের আয়োজন বরাবরই রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য ও শৌর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সামরিক দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের প্রতি প্রত্যয় একসঙ্গে তুলে ধরা হয়। সকাল থেকেই প্যারেড স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও আলোকসজ্জায় সাজানো প্রাঙ্গণ যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯৭১ সালের সেই গৌরবময় দিনগুলোর কথা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মনোজ্ঞ ফ্লাই পাস্ট ও এয়ার শো। আকাশে সুশৃঙ্খল কৌশলে উড়োজাহাজের প্রদর্শনী দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্যারাজাম্প ও এ্যারোবেটিক প্রদর্শনীতে ফুটে ওঠে সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সক্ষমতার চিত্র। আকাশে উড়োজাহাজের সমন্বিত কসরত অনেকের কাছেই ছিল দিনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকরা মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন, আর শিশু-কিশোরদের চোখেমুখে দেখা যায় বিস্ময় ও আনন্দের ছাপ।

অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি সমন্বিত ব্যান্ড পরিবেশন বিশেষ আবহ সৃষ্টি করে। দেশাত্মবোধক সুরে সুরে বাজানো সংগীত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের কথা নতুন করে অনুভব করায়। ব্যান্ডের পরিবেশনার সময় প্যারেড স্কয়ারে উপস্থিত অনেক দর্শককে গম্ভীর ও আবেগাপ্লুত দেখা যায়। বিজয় দিবস যে শুধু আনন্দের নয়, একই সঙ্গে গভীর আত্মঅনুধ্যানের দিন—এই বার্তাই যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এয়ার শো উপভোগ করতে ঢাকার তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। নানা বয়সী মানুষ, পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শক, তরুণ-তরুণী এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এলাকা প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা তল্লাশির পর দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন, যাতে বড় পরিসরের এই আয়োজনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কোথাও কোথাও অপেক্ষা করতে হলেও দর্শনার্থীরা তা স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন।

অনেক দর্শনার্থী জানিয়েছেন, বিজয় দিবসে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এসে এয়ার শো ও সামরিক প্রদর্শনী দেখা তাদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। একজন মধ্যবয়সী দর্শক বলেন, তিনি নিয়মিত টেলিভিশনে এই অনুষ্ঠান দেখেন, কিন্তু সরাসরি উপস্থিত হয়ে দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। আরেকজন তরুণ দর্শক বলেন, এই আয়োজন তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। শিশুদের জন্যও এটি ছিল শেখার সুযোগ—মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্কে আগ্রহ তৈরির একটি জীবন্ত পাঠ।

রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস স্পষ্ট ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে একটি প্রতীকী সংযোগ তৈরি করে। এখানে সামরিক শৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি একসঙ্গে মিলিত হয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেয়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আলাদা গুরুত্ব দেয়। আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত এই ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন। তার উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও আলোচনা লক্ষ্য করা যায়। অনেকের মতে, এটি দেশের বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।

বিজয় দিবসের এই আয়োজন ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট ও ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও সামগ্রিকভাবে জনসাধারণের মধ্যে ছিল ইতিবাচক মনোভাব। অনেকেই পরিবার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন সকালে, যেন একসঙ্গে এই ঐতিহাসিক দিনের অনুষ্ঠান উপভোগ করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত, যা বিজয় দিবসের উদযাপনকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দেয়।

সব মিলিয়ে, জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও জনসম্পৃক্ততার এক সমন্বিত প্রতিচ্ছবি। আকাশে উড়োজাহাজের কসরত থেকে শুরু করে মাটিতে সুশৃঙ্খল আয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল স্মরণীয় এক দিন। স্বাধীনতার গৌরবময় অর্জনকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ও যেন এই আয়োজনে নতুন করে উচ্চারিত হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত