বাংলাদেশকে আর কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না: মাহমুদুর রহমান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭১ বার
বাংলাদেশকে আর কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না: মাহমুদুর রহমান

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহান বিজয় দিবসের দিনে বাংলাদেশের ইতিহাস, জনমানুষের শক্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ও গভীর বার্তা দিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যারা আমাদের সাহায্য করেছিল বলে দাবি করেন, সেই ভারতও বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, কারণ আমাদের ১৮ কোটি জনগণ স্বাধীনতার জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। আজও বাংলাদেশের জনগণ আর কেউকে পদানত করতে দিতে পারবে না।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে ইনসাফ বারাকা কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃক আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং বারাকা ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পঁচাত্তরে, নব্বই ও চব্বিশে বিজয়ী হয়েছে। ভারত যত বড় দেশই হোক না কেন, আমাদের ১৮ কোটি মানুষকে তারা পরাজিত করতে পারবে না। স্বাধীনতার অর্জিত মর্যাদা আমরা রক্ষা করতে জানি।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের অনন্য উদাহরণ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাদের আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছে। শুধু বিজয় দিবস নয়, আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সবদিনই স্মরণীয়। ১৯৪৭ সালের দিন, যখন বাঙালি মুসলমানদের জন্য স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, স্বাধীনতা দিবসের ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৪ জুলাই বিপ্লব—এসব দিন আমাদের জাতির জন্য গর্বের দিন।”

মাহমুদুর রহমান শিক্ষার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন শান্ত নামের এক শিক্ষার্থীকে, যিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। তার বাবা একজন সাধারণ মুদি দোকানদার। এই ধরনের কাহিনি তাকে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি বলেন, “আমাদের শক্তি ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে লুকিয়ে আছে, আর এই শিশুদের মধ্যে নিহিত সম্ভাবনা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের মূল।”

প্রধান অতিথি আরও বলেন, দেশে কিছু রাজনীতিবিদ, যারা তথাকথিত ‘এলিট’ হিসেবে পরিচিত, মানুষের অর্থনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কটাক্ষ করে থাকেন। “গরিবের সন্তানকে ছোট করে দেখা, তাদের সক্ষমতা অবমূল্যায়ন করা একটি দুঃখজনক বিষয়। যারা নিজেদের অতীতে ভুলে গিয়ে বিত্তবান হয়েছেন, তাদের আচরণ ন্যায্য নয়। আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হতে হবে।”

জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, “তৎকালীন কিশোর শহীদরা চিঠির মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের দায়িত্ব বহন করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। আমাদের প্রজন্মকে সেই চেতনা ধারণ করে এগোতে হবে। এই দায়িত্বের ধারকরা হাদি এবং অনুরূপ তরুণ প্রজন্ম। তারা থাকুক বা না থাকুক, তাদের স্মৃতি বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।”

তিনি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বও তুলে ধরেন। বলেন, “আমাদের এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে রোগীদের দেশের বাইরে পাঠাতে হবে না। দক্ষ জনবল, আধুনিক চিকিৎসা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”

বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানকেও মাহমুদুর রহমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজকের বৃত্তি শুধু অর্থ বা সম্মাননা নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শক্তি। যারা এগুলো পাবে, তারাই আগামী দিনে দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার সোপান তৈরি করবে। এগুলোই আমাদের অনুপ্রেরণা, এগুলোই দেশের শক্তি।”

অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান, ইনসাফ বারাকা হাসপাতালের চেয়ারম্যান, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, “বিজয় দিবস এবারের মতো বিশেষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে আমাদের সকলকে এগিয়ে যেতে হবে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা বুকে নিয়ে দেশ গঠনে সকলে অংশগ্রহণ করবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারাকা ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন, এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আফজালুল করিম, এডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আলতাফ হোসেন, ডা. নাজনীন কবীর প্রমুখ। তারা সকলেই স্বতন্ত্রভাবে বৃত্তি প্রদান ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ড. মাহমুদুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বাংলাদেশ কখনোই অন্য কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণে যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে, দেশের জনসম্পদ ও শিক্ষিত তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে সবসময় স্বাধীন ও শক্তিশালী রাখা সম্ভব। তার কথায় প্রতিফলিত হয় দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, জনগণের প্রতি আস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ববোধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত